বিপ্লবের এক বছর শেসে কি আমরা কি আদৌ বৈষম্যহীন?

জুলাই বিপ্লবের এক বছর পার হয়ে গেলেও বাংলাদেশ যে প্রতিশ্রুত “বৈষম্যহীন দেশ” হতে পারেনি সেটা এখন আর কেবল ব্যক্তিগত অনুভূতি নয় বরং নানান মানবাধিকার রিপোর্টে ধরা পড়া এক নির্মম বাস্তবতা। Rights & Risks Analysis Group এর এক বিশ্লেষণে দেখা যায় আন্দোলনের পরের তেরো মাসে অন্তত ২২০ জন মানুষ মব হামলায় নিহত হয়েছে যাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ বলে সন্দেহভাজন লোকের পাশাপাশি নারী হিন্দু আদিবাসী এমনকি “চোর” বা “শিশুচোর” সন্দেহে সাধারণ গ্রামবাসীরাও ছিল। একই সময়ে Human Rights Watch আর অন্যান্য সংস্থার তথ্য বলছে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বন্ধ তো হয়ইনি বরং অনেক ক্ষেত্রে বেড়েছে অন্তর্বর্তী সরকার নিজেই স্বীকার করেছে আগস্ট ২০২৪ থেকে অক্টোবরের মধ্যে অন্তত ৮৮টি সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে আর ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে অন্তত ৩৯টি বড় আক্রমণ হয়েছে। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ জানিয়েছে ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসেই কেবল ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে ৯২টি হামলা লুটপাট বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে যার মধ্যে আছে ১১টি মন্দির আক্রমণ ২৭টি বাড়িঘর পোড়ানো আর একাধিক নারী ও কিশোরীর ওপর যৌন সহিংসতা।
 
নারীদের অবস্থাও খুব ভিন্ন নয় বরং অনেক ক্ষেত্রেই খারাপ হয়েছে। নতুন সরকারের কথা ছিল নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কিন্তু ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসের ঘটনাগুলো নিয়ে প্রকাশিত গবেষণা বলছে রাজনৈতিক অস্থিরতা আর ইসলামী মৌলবাদের উত্থানের সুযোগে নারীর বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা রাস্তাঘাটে হামলা ও উত্পীড়ন বেড়েছে বিশেষ করে পাবলিক স্পেসে। এক গবেষণায় দেখা গেছে আগস্ট ২০২৪ এর পরের সময়ে শৈলা বীথির মতো নারী পর্বতারোহী বা কক্সবাজারের নারী পর্যটকসহ একাধিক আলোচিত হামলা আসলে একটি বড় প্রবণতার অংশ যেখানে নারীর চলাচলের উপর পুরুষতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ আর ধর্মীয় ভাষায় “লজ্জা শালীনতা”র কথা বলে সহিংসতাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। একই সাথে আদিবাসী ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আক্রমণও থামেনি জাতিসংঘ সমর্থিত IWGIA এর রিপোর্টে বলা হয়েছে ২০২৪ এর সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ এর জানুয়ারি পর্যন্ত খাগড়াছড়ি রাঙামাটি আর ঢাকার জাতীয় পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সামনে আদিবাসী আন্দোলনে হামলা প্রমাণ করে যে তাদের সংগঠন ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার এখনো নিরাপদ নয়।
 
একজন উভকামী নাস্তিক নারীবাদী নারী হিসেবে এই এক বছরের হিসেব–নিকেশ করতে গিয়ে নিজের শরীর আর পরিচয়ের প্রতিটি দিকেই বৈষম্যের ছায়া খুব কাছ থেকে দেখি। একজন নারী হিসেবে দেখি হেফাজত আর অন্য উগ্র গোষ্ঠীর চাপে নারীর পোশাক চলাফেরা খেলাধুলা উত্তরাধিকার সবকিছু নিয়েই নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আর আক্রমণ বেড়েছে; একজন কুইয়ার মানুষ হিসেবে দেখি আইন সমাজ ও পরিবারের হিংস্রতা আগের মতই বা তার চেয়েও বেশি আছে; একজন নাস্তিক হিসেবে দেখি ব্লাসফেমি অভিযোগের আতঙ্ক এখনো সোশ্যাল মিডিয়ার হাওয়ায় ভাসছে। জুলাই বিপ্লবের মিছিলে যখন “বৈষম্যহীন বাংলাদেশ চাই” স্লোগান দেওয়া হয়েছিল তখন কল্পনাটা ছিল এমন এক দেশের যেখানে ধর্ম লিঙ্গ পরিচয় দল বা শ্রেণি দেখে নয় বরং মানুষ দেখে বিচার হবে আজ এক বছর পরে দাঁড়িয়ে সেই স্লোগানকে ফিরে তাকালে মনে হয় পথের শুরুটা হয়তো সত্যি বদল এনেছে কিন্তু বৈষম্যহীনতার স্বপ্ন এখনো কেবল খসড়া আর ঘোষণাপত্রের পাতাতেই বেশি বেঁচে আছে জীবন আর রাস্তাঘাটের ভিড়ে অনেক কম।

31 Responses

  1. বিপ্লবের এক বছর শেষে আমরা কি সমান? প্রশ্নটা খুব জ্বালাময়ী। হ্যাঁ, সরকার গেছে, পতাকা বদলেছে; কিন্তু নারী, কুইয়ার, আদিবাসী, হিন্দুদের জন্য বাস্তবে কতটা পাল্টেছে এই হিসাব কেউ করতে চায় না, আপনি অন্তত তুলেছেন।

  2. আপনি সবকিছুর নিশানা শুধু নতুন সরকারের দিকে করেছেন। আগের ১৫ বছরের নির্যাতন, ক্রসফায়ার, কারাগার সেগুলোর দায় নিয়ে কী লিখলেন? বিপ্লবের ব্যর্থতা বলতে গিয়ে মনে হলো, আপনি পুরনো শাসকদের দায়ও পাতলা করে দিচ্ছেন।

  3. ভালো লাগল যে আপনি বিপ্লবকে রোমান্টিসাইজ করেননি। রাস্তা কাঁপানো সেই জুলাইয়ের দিনগুলোর উচ্ছ্বাস আর আজকের ভাঙা আশা দুটোই পাশাপাশি এনেছেন। এটা পরিণত রাজনৈতিক লেখা, শুধু স্লোগান না।

  4. আপনার কথায় স্টুডেন্টস এগেইনস্ট ডিসক্রিমিনেশন যেন সব ভালো, আর বাকিরা সব খারাপ। এই মুভমেন্টের ভেতরেও তো কট্টর জাতীয়তাবাদ, হোমোফোবিয়া, নারী বিদ্বেষ ছিল ওগুলো আপনি খুব হালকা করে গেছেন।

  5. মহিলা যতই ব্যারিকেডে স্লোগান দিক, সিদ্ধান্তের টেবিলে তাকে দেখা যায় না এই লাইনটা একদম চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে, বিপ্লবের ভেতরেও পুরুষতন্ত্র টিকে থাকে। আগেও দেখেছি, এখনো দেখছি।

  6. আপনি সবসময়ই খুব হতাশ সুরে লেখেন। একটা বছরেই সব বদলাবে আশা করাও কি বাস্তবিক? এত বছরের দমন পীড়নের পর স্ট্রাকচারাল বৈষম্য এক ঝটকায় দূর হবে না, আপনি যেন সেটা মানতেই রাজি নন।

  7. আপনি যেভাবে লিখেছেন হিজাবি মেয়ে, কুইয়ার ছেলেটা, পাহাড়ি ছাত্রী এরা সবাই একই ব্যারিকেডে ছিল, কিন্তু আজকে তাদের প্রাইওরিটি লিস্টে নেই এই অভিযোগটা সত্যি। রেভল্যুশন সবসময়ই মার্জিনালদের বেইমানি করে।

  8. মনে হলো, আপনার কাছে প্রগ্রেস মানেই এলজিবিটি অধিকার আর নারীবাদ। গ্রামগঞ্জে গরিব মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা, চিকিৎসা, কাজ এসব নিয়ে এই বিপ্লব কী করেছে, সে প্রসঙ্গটা আপনি খুব কম টাচ করেছেন।

  9. ওরা শেখ হাসিনার পতন চেয়েছিল, পিতৃতন্ত্রের পতন না এই লাইনটা কষ্টদায়ক কিন্তু খুব সত্য। যারা নতুন হিরো হয়েছে, তাদের ফেসবুক লাইভ, ভাষণ শুনলেই বোঝা যায়, নারীর জায়গা এখনও পুরনো চৌকাঠেই।

  10. আপনি বিপ্লবের ভেতরকার ক্লাস ডাইনামিক্সও টেনেছেন যারা প্রাইভেট ইউনিতে পড়ে, তাদের জন্য স্কলারশিপ কথা উঠেছে, কিন্তু পল্লির কলেজ ছাত্র, গার্মেন্টস শ্রমিকরা আলোচনায়ই নেই। এই পয়েন্টটা খুব জরুরি ছিল।

  11. আবারও ধর্মকে বাঁশের মাদুর বানিয়ে বাজালেন। বিপ্লবের ব্যর্থতা বলতে গিয়ে মূলত ইসলামি গ্রুপ, মাজার বিরোধী, ভাস্কর্য ভাঙা এসব নিয়ে বেশি গেলেন; অথচ রাজনৈতিক দল, সেনা, আমলা এসব ক্ষমতাকাঠামোর সমালোচনা তুলনামূলক কম।

  12. আপনি ঠিকই বলেছেন, বিদায় মিছিলের ব্যানারে বৈষম্য মুক্ত বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি ছিল, কিন্তু আইন, নীতি, বাজেটে সেটা নেই। এক বছরে অন্তত কুইয়ার নারী সংখ্যালঘুর বিরুদ্ধে মামলাগুলো রিভিউ করার কাজ শুরু হতে পারত।

  13. ইন্টারন্যাশনাল রিপোর্ট থেকে যেভাবে কোটার রিফর্ম, জুলাই ম্যাসাকার, ১৪০০ মৃত্যু এসব রেফারেন্স এনেছেন, তাতে বোঝা যায় আপনি কেবল সেন্টিমেন্টে না, ফ্যাক্ট নিয়েও কাজ করছেন। যদিও বিশ্লেষণে আপনার নিজের বায়াস স্পষ্ট।

  14. লেখাটা পড়ে মনে হলো, আপনি বিপ্লবের কোনো ইতিবাচক দিকই দেখতে চান না। মিডিয়া ফ্রিডম, টর্চার কমপ্লেইন, ডিএসএ বাতিলের প্রক্রিয়া এসবেও তো কিছু পরিবর্তন এসেছে। পুরোটা অস্বীকার করা ফেয়ার না।

  15. মব জাস্টিস আর স্টেট জাস্টিসের মাঝখানে সাধারণ মানুষ এখনও একা আপনার আগের ব্লগের সাথে এই লেখার থিমালিঙ্কটা পরিষ্কার। বিপ্লবের পরও আমরা আইনের বদলে ভিড়ের শক্তিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।

  16. আপনি বারবার এলজিবিটি রিপোর্টের কথা তুলেছেন বলা হচ্ছে, ২০২৪ এর পর হামলা আরও বেড়েছে। এই কনটেক্সটে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ কথাটা যে পুরোপুরি রাজনৈতিক স্লোগান, তা বোঝা যাচ্ছে। আপনার রাগটা তাই যৌক্তিক।

  17. বিপ্লবের সময়ে যারা ধর্মীয় স্লোগান ব্যবহার করেছে, তাদের সমালোচনায় আপনাকে অনেক তীক্ষ্ণ মনে হয়েছে, কিন্তু একই সময়ে বাম লিবারেলরা যে নিজেদের মধ্যেও ভিন্ন মত সহ্য করে না, সেটাও চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে পারতেন।

  18. যে বিপ্লব কুইয়ার পতাকার রংকে সহ্য করতে পারে না, সেই বিপ্লব কাকে স্বাধীনতা দিল এই প্রশ্নটা খুব সোজা, কিন্তু অনেকের বুক কাঁপিয়ে দেবে। আমরাও ব্যানারে ‘অসাম্প্রদায়িকতা’ লিখে, গ্রাউন্ডে হোমোফোবিক থাকি।

  19. আপনি সবকিছুতে আদর্শবাদী ডিমান্ড রাখেন। রেভল্যুশনের এক বছরে যে অন্তত সামরিক শাসন আসেনি, দেশে পূর্ণ গৃহযুদ্ধ হয়নি এটাও তো একটা গেইন। সব সময় পারফেক্ট না হলে নাথিং বলে দেওয়াটা প্র্যাক্টিক্যাল না।

  20. আপনার বৈষম্যহীনতার মাপকাঠি পছন্দ হয়েছে কারা নিরাপদে কথা বলতে পারে, কারা নিজেদের নাম পরিচয় লুকাতে বাধ্য এটা দিয়েই আসলে বোঝা যায় আমরা কোথায়। এই স্কেলে দেখলে, সত্যিই পরিবর্তন খুব কম।

  21. আবারও দেখলাম, আপনি প্রায় সব সময় ধর্মীয় ভাগ, জেন্ডার সেক্সুয়ালিটি ভাগ এসব নিয়ে লিখলেন; জাতিগত, ভাষাগত, প্রতিবন্ধী মানুষের বৈষম্য খুব কম এল। বৈষম্য শব্দটা আরও বিস্তৃত, আপনি বেশ সংকীর্ণভাবে ব্যবহার করেছেন।

  22. আপনার ভাষায় মাঝে মাঝে মনে হয়, বিপ্লবের সব কৃতিত্ব শুধু অ্যাক্টিভিস্ট আর কুইয়ার নারী নেতাদের, বাকিরা সবাই সুযোগসন্ধানী পুরুষ । ইতিহাস এত একপাক্ষিক হলে সত্যের জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

  23. তবু এ কথা মানতেই হয়, নতুন সরকারের অধীনে হিন্দু, আদিবাসী, এলজিবিটি মানুষদের ওপর হামলার খবর কমেনি; বরং অনেক ক্ষেত্রে বেড়েছে। আপনি যে এসব রিপোর্টের দিকে মনোযোগ টেনেছেন, সেটা গুরুত্বপূর্ণ।

  24. আপনি যে প্রশ্ন তুলেছেন আমাদের কি এখন ভিন্ন পতাকা, ভিন্ন স্লোগান, ভিন্ন পাসপোর্ট লাগবে? সেটা হতাশার হলেও বাস্তব। রাজনীতির ভাষা বদলেছে, কিন্তু পুলিশ, আদালত, সমাজের আচরণ খুব বেশি বদলায়নি।

  25. আপনার লেখা পড়ে মনে হয়, আপনি গণতান্ত্রিক পলিটিক্সে বিশ্বাসই করেন না; সবকিছু ম্যাস, মব, প্যাট্রিয়ার্কি, ফ্যাসিজম এই শব্দ দিয়ে ব্যাখ্যা করেন। কিছু জায়গায় ডেমোক্রেটিক গেইনকেও স্পেস দিতে পারতেন।

  26. আমার কাছে আপনার এই ব্লগটা এক ধরণের নৈতিক হিসাব নিকাশ মনে হয়েছে। যারা তখন স্লোগান দিচ্ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ চাই , তাদের আজকে কোটা, চাকরি, প্যাকেজ পাওয়ার দৌড়ের ভেতরেও দেখতে চাই ঠিকই বলেছেন।

  27. তবু মনে হয়, এত দ্রুত বিচার কঠোর হয়ে যাচ্ছে। রেভল্যুশন পরবর্তী যেকোনো সময়ই ট্রাঞ্জিশনাল; এই এক বছরে সব ব্যর্থতার ভর দায় নতুন সেটআপের ওপর দিলে পুরনো দানবরা আবার মাথা তুলবে।

  28. আপনি যে ভাবে July Revolution এর গ্লোবাল কভারেজ, HRW রিপোর্ট, লিগ্যাল রিফর্মের প্রতিশ্রুতি এসবকে রেফারেন্স হিসেবে এনে বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে তুলনা করেছেন, তাতে স্পষ্ট দেখা যায়, কথার চেয়ে কাজ কম।

  29. আবারও এলজিবিটি সেন্ট্রিক দৃষ্টি। ঠিক আছে, তাদের কষ্ট আছে; কিন্তু যুদ্ধাপরাধের বিচার আটকে থাকা, শ্রমিকের অধিকার, রোহিঙ্গাদের অবস্থা এসবও তো আছে। আপনার লেখায় সবসময় কুইয়ার ইস্যু disproportionate স্পেস পায়।

  30. বিপ্লবের অভিধান থেকে যদি ‘ন্যায়’ শব্দটাই মুছে যায়, তাহলে বাকি শব্দগুলোর মানে কী এই প্রশ্নটা মাথায় ঘুরছে। অনেকে শুধু পতনকে বিজয় ভেবেছিল, আপনি ঠিকই বলেছেন, ন্যায়বিচার ছাড়া সেটা অসম্পূর্ণ।

  31. আপনার লেখায় একধরনের ক্লান্ত রাগ আছে যা অনেক পাঠকের সঙ্গে রেজোনেট করবে। আমরা যারা রাস্তায় ছিলাম, এখন চাকরির ইন্টারভিউতে গিয়ে আবার পুরনো বৈষম্যের মুখোমুখি হচ্ছি আমাদের হতাশা আপনি ভাষা দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *