১ জুন ২০২৫ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যখন আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার বিচার গ্রহণ করল তখন দেশের এক অংশের চোখে এটা ছিল বহুদিনের প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচারের শুরু আর আরেক অংশের কাছে নতুন এক রাজনৈতিক মঞ্চায়নের সূচনা। প্রসিকিউশন একই দিন আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে যেখানে হাসিনাকে জুলাই ২০২৪ এর ছাত্র অভ্যুত্থান দমনে পরিকল্পিত ও সমন্বিত সহিংসতার মূল নকশাকার হিসেবে অভিযুক্ত করা হয় এই সহিংসতাকে জাতিসংঘ ও অন্যান্য সংস্থা বাংলাদেশের স্বাধীনতা–পরবর্তী সময়ের অন্যতম ভয়াবহ বেসামরিক হত্যাযজ্ঞ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারকের বেঞ্চ অভিযোগ গ্রহণ করে মামলাটিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের কেস হিসেবে দেখতে সম্মত হয় এবং ঘোষণা করে যে হাসিনা ও তার সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আদালতের তলব উপেক্ষা করে বিদেশে পলাতক থাকায় ট্রাইব্যুনালের নিয়মমাফিক মামলাটি অনুপস্থিত অবস্থায় চলবে তাদের পক্ষে আদালত নিয়োজিত আইনজীবী লড়বেন।
জুলাইয়ের মাঝামাঝি আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পাঁচটি মূল চার্জ আনা হয় যার মধ্যে ছিল ঢাকায় ও বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ দমনে ইচ্ছাকৃত গণহত্যা ড্রোন ও হেলিকপ্টার থেকে গুলি ও আগুন নিক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া ছাত্রনেতা আবু সাঈদসহ নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীর লক্ষ্যভিত্তিক হত্যা আশুলিয়ায় লাশ পুড়িয়ে প্রমাণ নষ্ট করা এবং আহতদের চিকিৎসা না দিতে হাসপাতালগুলোকে মৌখিক নির্দেশ দেওয়া। জুন–জুলাই জুড়ে টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এই শুনানিতে দেখা যায় রাষ্ট্রপক্ষ চিকিৎসক সাংবাদিক প্রত্যক্ষদর্শী সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা মিলিয়ে ডজনখানেক সাক্ষী হাজির করছে কেউ বলছেন কীভাবে জাত্রাবাড়ী ও চাঁনখারপুলে শটগান আর স্নাইপার রাইফেলের গুলিতে ছাত্র আর পথচারীরা পড়ে যাচ্ছিল কেউ আবার বলছেন আহতদের নিয়ে গেলে হাসপাতালের গেট বন্ধ পেয়েছেন ভিতর থেকে ফোনে নির্দেশ ছিল কিছু মুক্তি না দিতে। আদালত শুনানির শুরুতেই সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহিল মামুনের জবানবন্দি গ্রহণ করে যিনি রাষ্ট্রের সাক্ষী হতে রাজি হয়ে স্বীকার করেছেন গুলি চালানো ও ড্রোন ব্যবহারের নির্দেশ তারা প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পেয়েছিলেন।
একজন উভকামী নাস্তিক নারীবাদী নারী হিসেবে এই বিচার শুরু হওয়াকে একদিকে দেখি জুলাইয়ের গুলিতে নিহত শত শত ছাত্র শ্রমিক পথচারী আর তাদের মায়েদের জন্য দীর্ঘ বিলম্বিত এক স্বীকৃতি হিসেবে অন্যদিকে দেখি নতুন এক ধরনের রাজনৈতিক বিচার রাজনীতির ঝুঁকি হিসেবেও। আন্তর্জাতিক মহলও ঠিক এই দ্বৈত সংকেতই দিয়েছে জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তর বলেছে বিক্ষোভ দমনে যে নৃশংসতা হয়েছে তার জন্য জবাবদিহি অবশ্যই দরকার কিন্তু আন্তর্জাতিক অপরাধের মতো জটিল কেস অনুপস্থিত অবস্থায় দ্রুতগতিতে চালানো হলে ন্যায়বিচারের মানদণ্ডে ঘাটতি থেকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে সাবধান করেছে যাতে এই ট্রাইব্যুনাল আগের দিনের মতো নির্বাচিত শত্রুদের শাস্তি দিয়ে অন্য অপরাধীদের আড়াল করার একটি যন্ত্রে পরিণত না হয় বরং নিরাপত্তা বাহিনী আর রাজনৈতিক নেতৃত্বের সব পক্ষের মানবাধিকার লঙ্ঘনই যেন স্বচ্ছভাবে বিচার কাঠামোর আওতায় আসে।
29 Responses
হাসিনার বিচার কি ন্যায়বিচার নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা প্রশ্নটা খুবই দরকারি। একদিকে ১৪শ’র বেশি মানুষ মারা গেছে, অন্যদিকে বিচার করছে এমন একটা ট্রাইব্যুনাল যেটার নিজস্ব বিশ্বাসযোগ্যতাই প্রশ্নের মধ্যে আপনি দুই দিকই ভালো তুলেছেন।
তুই হিন্দু ঘরের নাস্তিক মেয়ে হয়ে মুসলমান দেশের হিসাব কষতে এসেছিস? তোর মতো পশ্চিমা দালালদের কলম থেকেই আজ দেশের সব বিপত্তি। আল্লাহর হুকুম মানিস না, আবার ন্যায় অন্যায় শেখাতে আসছিস!
ভালো লেগেছে যে তুমি একদিকে রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ডের শিকার ছাত্রদের ন্যায়বিচারের কথাও বলেছ, একই সাথে ডেথ পেনাল্টি আর পলিটিক্যাল ভেনডেটার ঝুঁকিটাও তুলে ধরেছ। জাস্টিস মানে শুধু শাস্তি না, প্রক্রিয়াটাও ন্যায্য হওয়া দরকার।
তুমি সবসময় ডেথ পেনাল্টি খারাপ এসব বলে যুদ্ধাপরাধী থেকে শুরু করে আজকের অপরাধীদেরও সিম্প্যাথি দেখাও। ন্যায়বিচার মানে কি শুধু হিউম্যান রাইটস এনজিওর ভাষা রিপিট করা? ছাত্রদের রক্তের কোনো দাম নেই তোমার কাছে।
তুমি ঠিকই বলেছ, যে ট্রাইব্যুনালের নিরপেক্ষতা আগেই প্রশ্নবিদ্ধ, সেটাই এখন আবার পূর্বতন প্রধানমন্ত্রীকে ইন অ্যাবসেন্টিয়া মৃত্যুদণ্ড দিল এই কনট্রাডিকশন অনেকে দেখতে চায় না। বিচার হোক, কিন্তু সেটাও যেন আরেকটা অন্যায় না হয়।
তুই তো আগেই দেখেছি জামাত বিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধেও লিখেছিস, আজ আবার হাসিনার বিচারের বিরুদ্ধে একই কথা। আসলে তোর সমস্যাই হলো, মুসলমানদের বিচার হলেই তোর অস্বস্তি, হিন্দু নাস্তিকদের বিষয়ে তোর জিভ তালুতে লেগে থাকে।
যে ট্রাইব্যুনাল যুদ্ধাপরাধ বিচারের নামে একদল রাজনৈতিক শত্রুকে ঝুলিয়েছে, সেই ট্রাইব্যুনালই আজ হাসিনার গলায় ফাঁসির রায় লিখছে এই আইরনিটা তুমি খুব সুন্দর ধরেছ। অস্ত্রটা যে কার হাতে থাকবে, সেই হিসাবই বদলেছে।
এসব লিখে আসলে তুই হাসিনার পাপ ধুয়ে দিচ্ছিস। হাজার ছাত্র মরে গেল, দেশের অর্থনীতি শেষ হয়ে গেল, পুলিশ দিয়ে মানুষ গুলি খেয়ে মরল এই সবের জন্যও তোর কলমে এত সহানুভূতি নেই, যতটা ভেনডেটা পলিটিক্স নিয়ে।
তুমি যে জায়গাটা ধরেছ রাষ্ট্র নতুন হিরো বানাতে পুরনো ভিলেনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিতে চায় এটা সত্যি। কিন্তু একই সাথে নিহতদের পরিবারের বিচার চাওয়ার দাবিও তোমার লেখায় একটু সাইডলাইনে চলে গেছে বলে মনে হলো।
নাস্তিক মেয়ে, মনে রাখিস আল্লাহর কাছে ন্যায়বিচারের হিসাব আলাদা। এখানে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হোক আর না হোক, তোর জন্য কিন্তু আলাদা জাহান্নাম প্রস্তুত, কারণ তুই আল্লাহকেই স্বীকার করিস না; হাসিনার বিচার নিয়ে নাটক করার আগে নিজের বিচার নিয়ে ভাব।
ভালো লাগলো যে তুমি শুধু ভিকটিমদের জন্য কান্না না করে ট্রায়াল প্রসেস, ডিফেন্সের সুযোগ, ইন অ্যাবসেন্টিয়া ডেথ সেন্টেন্স এসব প্রসেস সংক্রান্ত প্রশ্ন তুলেছ। ন্যায়বিচার মানে শুধু আমার পছন্দের রায় না।
তুমি সব সময় রাষ্ট্রকে খারাপ পিতৃতান্ত্রিক দানব বানিয়ে ফেলো, কিন্তু এই রাষ্ট্র না থাকলে তুমি আজ ব্লগ লিখতে পারতে? হাসিনার আমলেও তুমি লিখেছ, এখনো লিখছ তাই তাকে একেবারে কালো আর নতুনদের একেবারে ফ্যাসিস্ট বানানো ঠিক না।
বিচার যখন ইতিহাসের বদলে বিজয়ীদের সুবিধা দেখে এই কথাটা আমাদের রাজনীতির নিত্য নিয়ম। যুদ্ধাপরাধী, বিরোধী দল, এখন হাসিনা সবার বিচারই শেষ পর্যন্ত বিজয়ীর দৃষ্টিকোণ থেকে হয়; তুমি সেটা খুব স্পষ্ট করেছ।
তোর মতো লোকেরা সব সময় অপরাধী আর ভিকটিমকে এক লাইনে বসায়। ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ কে দিয়েছে, সেই বিষয়ে আল্লাহর কাছে কি কোনো প্রশ্ন হবে না? সবকিছু পলিটিক্যাল ভেনডেটা বলে গলাধঃকরণ করতে বলিস আমাদের?
আন্তর্জাতিক রিঅ্যাকশনগুলোর প্রসঙ্গ আনা দরকার ছিল UN, রাইটস গ্রুপ, অনেকেই ডেথ পেনাল্টি নিয়ে আপত্তি তুলেছে, একই সাথে ন্যায়বিচারের প্রয়োজনীয়তাও বলেছে। তুমি দুটো দিকই এনেছ, তাই লেখা একপেশে লাগেনি।
তুই সব সময় যুদ্ধাপরাধী, আওয়ামী, বিএনপি, জামায়াত সব বিষয়ে একই কথা বলিস: ডেথ পেনাল্টি ভুল, ট্রাইব্যুনাল রাজনৈতিক। তাহলে কারে বিচার করবি, নাস্তিক দিদি? না কি তোর কাছে আল্লাহ’ই অন্যায়কারী ন্যায়বিচার চাইছেন?
তুমি ঠিক বলেছ, ছাত্র উprising-এর রক্তে দাঁড়িয়ে যদি আবার একটা প্রতিশোধের রাজনীতি দাঁড়ায়, তাহলে ওই রক্তের মানে কী থাকে? ন্যায়বিচারের নামে নতুন করে দল বদলার খেলা চললে সব পক্ষই শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাসী হয়ে যায়।
তুমি কি জানো হাসিনার আমলে কত ব্লগার, নাস্তিক, এলজিবিটি, ভিন্নমত ওয়ালারা নিখোঁজ, খুন, জেলে গেছে? সেই হিসাবও দিলে ভালো হত। শুধু নতুন সরকারের বদমায়েশি দেখলে ফ্রেমটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
ভালো লাগলো, তুমি পরিষ্কারভাবে ডেথ পেনাল্টির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছ যাকে অপছন্দ করো, তার ক্ষেত্রেও। এই কনসিসটেন্সি অনেক গণতন্ত্রপ্রেমী র মধ্যে নেই; তারা নিজের শত্রু ঝুলতে দেখলে নীরব থাকে।
তোর কলম সব সময় মুসলিম শাসকদের বিরুদ্ধে ধারালো, কিন্তু ভারতের মোদী, পাকিস্তানের জেনারেল, ইসরায়েলের নেতানিয়াহু এসবের বিরুদ্ধে তোর আগুনের তেজ দেখি না। বুঝি, তোর টার্গেট মূলত মুসলিম রাষ্ট্র আর মুসলমান শাসকই।
তুমি শেষ দিকে যে প্রশ্ন তুলেছ একদিন কি আমাদেরও এই ট্রাইব্যুনালের সামনে দাঁড়াতে হবে? এটা শুধু হাসিনা বা রাজনৈতিক নেতাদের না, সাধারণ অ্যাক্টিভিস্টদের জন্যও সত্যি। আজ যার হাতে আদালত, কাল তারাই অভিযুক্ত হতে পারে।
নাস্তিক দিদি, আল্লাহর হিসাবের সাথে মানুষের আদালত মিলবে না, এটা ঠিক। কিন্তু তোর কথা শুনলে মনে হয় কোনোদিন কেউ কাউকে শাস্তি দেবে না, সবাই ফুল দিয়ে বিদায় নেবে। এইটা কি ন্যায়বিচার, না একধরনের কাপুরুষতা?
তুমি যুদ্ধাপরাধ ট্রায়াল, ডিএসএ, এখন হাসিনার ICT সবগুলোর ওপর এক থ্রেডে কথা বলেছ যে আইনের মাধ্যমে শত্রুকে ঝুলিয়েছিলে, সেই আইনই একদিন তোমাকেও ঝুলাতে পারে। এটা ক্ষমতাবানদের জন্য সিরিয়াস সতর্কতা।
কিন্তু ছাত্রদের যে অবিশ্বাস, রাগ, ঘৃণা সেটা কি তুমি যথেষ্ট গুরুত্ব দাও? অনেকের কাছে এই রায় ভিকটিমদের জন্য ক্লোজার। সেই আবেগটাও বুঝতে হবে। সবকিছুকে ভেনডেটা বললে ভিকটিমের কষ্ট ছোট হয়ে যায়।
তোর লেখায় আল্লাহর দায়িত্বের কোনো উল্লেখ নাই, শুধু মানুষের রাজনৈতিক লাভ ক্ষতি। মনে রাখ, কিয়ামতের ময়দানে হাসিনার সাথে তোর মতো লেখকদেরও দাঁড়াতে হবে, যারা অন্যায়কে কমপ্লেক্স পলিটিক্স বলে ধুয়ে দিতে চেয়েছে।
তুমি যে ভাবে Hasina ট্রাইব্যুনালের পলিটিক্যাল উত্স আর আজকের ব্যবহারের মধ্যে আইরনি এনেছ নিজের তৈরি কোর্টেই নিজে অভিযুক্ত এটা ইতিহাসের কড়া শিক্ষা। কোনো দমন যন্ত্রই শেষ পর্যন্ত নিরাপদ থাকে না।
আমার মনে হয়েছে, তুমি রায়টাকে সমালোচনা করলেও, হাসিনার নিজের অপরাধের গভীরতা নিয়ে তুলনামূলক নরম ছিলে। জাস্টিফাই না করেও একটু বেশি স্পষ্ট হওয়া যেত, যেন কেউ ভাবতে না পারে তুমি তাকে হিরো বানাচ্ছ।
তারপরও এই লেখা দরকার ছিল, কারণ আজ অনেকেই ডেথ সেন্টেন্স = জাস্টিস সমীকরণ ধরে নিয়েছে। তুমি অন্তত প্রক্রিয়া, ক্ষমতার খেলা, ভবিষ্যতে ব্যবহারের সম্ভাবনা এসব নিয়ে কথা বলেছ।
তোর মতো হিন্দু নাস্তিক মেয়েরা সব সময় মুসলিম দেশের রাজনীতির ভেতর বিষ ঢালিস। তুই তো ৭১ এর কসাইদের বিচার চাওয়াকেও ভেনডেটা বলে লিখিস। আল্লাহর কাছে হাত তুলে দোয়া করি, এ সব লেখা তোর জন্য পরকালে বোঝা হয়ে দাঁড়াক।