কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোর ছবি দেখলে কখনও কখনও মনে হয়, মানুষ যেন এখানে জন্মগতভাবেই অপরাধী। একই রঙের টিনের চাল, বাঁশের দেয়াল, গোঁড়ালির সমান কাদা, মাথার ওপর কাঁটাতারের সারি, যেন একটা বিশাল খোলা জেলখানা। এইখানে প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গা মানুষ বছরের পর বছর ধরে আটকে আছে, যাদের বেশির ভাগই মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর গণহত্যা, ধর্ষণ, গ্রাম পোড়ানোর মধ্যে দিয়ে পালিয়ে এসেছে। ইতিমধ্যেই তারা সব হারিয়েছে, বাড়ি, জমি, আত্মীয়স্বজন, সম্মান, নিরাপত্তা, তার ওপর ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক সহায়তার টাকা কমে যাওয়ায় তাদের মুখের শেষ ভাতটাও কেটে নেওয়া হল।
২০২৩ সালের মার্চ থেকে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) অর্থের ঘাটতির কথা বলে প্রতি মাসের খাদ্য ভাউচারের পরিমাণ কমিয়ে আনল, আগে যেখানে একজন রোহিঙ্গা শরণার্থী মাসে ১২ ডলার সমমূল্যের খাবার পেত, সেটা প্রথমে ১০, পরে আবার জুনে ৮ ডলারে নেমে এল। এই কাগজের হিসাবের পেছনে বাস্তবতা ছিল আরও নির্মম, ক্যাম্পের ৯০ ভাগ মানুষ পর্যাপ্ত খাবার জোগাড় করতে না পারায় অনাহার আর অপুষ্টি বেড়ে গেল, পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের ১৫ শতাংশের বেশি মারাত্মক পুষ্টিহীনতায় ভুগতে লাগল, যা জরুরি পরিস্থিতির সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। যখন একটা পরিবার পুরো মাসে মাথাপিছু দিনে কয়েকশো ক্যালরিও জোগাড় করতে পারে না, তখন তাদের চোখে “মানবাধিকার” কথাটা কেমন শোনায়?
এই সব কাটছাঁটের আঘাত সবার ওপর পড়লেও, তার সবচেয়ে ভারী অংশটা গিয়ে পড়ে নারীদের গায়ে। রোহিঙ্গা শিবিরের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী ও কিশোরী; তাদের অনেকেই একা, স্বামীবিহীন, বিধবা, বা এমন পুরুষদের পরিবার যারা কাজ করতে পারে না, অসুস্থ বা গুম হয়ে গেছে। রেশন কমে যাওয়ার পর যে সামান্য খাবার থাকে, সেটা ভাগ করার সময় প্রথমেই নিজের অংশ কমায় মেয়েরা, বাচ্চাদের একটু বেশি দেবে, অসুস্থ স্বামীকে একটু বেশি দেবে, হয়তো বৃদ্ধ শ্বশুর–শাশুড়িকে দেবে; নিজের প্লেটটাকে একটু একটু করে ফাঁকা করে ফেলবে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণে পরিষ্কার দেখা গেছে, যেসব পরিবার নারী–প্রধান, তারা সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেয়েছে, তাদের আয়ের পথ কম, ঘর থেকে বাইরে বেরোবার সুযোগ কম, ফলে তারা প্রায় একমাত্র এই রেশনেই বেঁচে থাকে। রেশন কমে যাওয়ার পরে অনেকেই ভিক্ষা, ধার–দেনা, আর শেষ পর্যন্ত নিজেদের শরীরকে পণ্য বানিয়ে বেঁচে থাকার দিকে ঠেলে যাচ্ছে, এমন আশঙ্কা তুলে ধরেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
এই কাঁটাতারের ভিতরের পৃথিবীটা কেবল ক্ষুধার গল্প না, এটা হিংসারও গল্প। ক্যাম্পগুলোর ভেতরে গত কয়েক বছরে ক্রমাগত বেড়েছে অস্ত্রধারী গ্যাং, মাদক চক্র, অপহরণ আর খুনোখুনি; জাতিসংঘ ও সাংবাদিকরা লিখছে, মেয়েরা একা রাস্তা দিয়ে হাঁটতে ভয় পায়, ক্যাম্পের এক ব্লক থেকে আরেক ব্লকে যেতে গেলেই অপহরণের ভয়, ধর্ষণের ভয়, গুলির ভয়। যখন পেটে ভাত নেই, তখন এই গ্যাংগুলো আরও শক্ত হয়, কারণ ক্ষুধা আর অনিশ্চয়তার সুযোগ নিয়ে তারা নারী ও কিশোরীদের সামনে মায়া দেখায়: কাজের ব্যবস্থা করে দেবে, ভালো বাড়িতে কাজ, বিদেশে যাওয়ার রাস্তা, একটু বেশি টাকা। আর এই “ভালো কাজ”ই অনেক সময় হয়ে ওঠে মানবপাচারের পথ, যৌন শোষণের ফাঁদ, বা জোর করে বিয়ে দিয়ে দেওয়ার অজুহাত। ২০২৩ সালে রেশন কাটার সিদ্ধান্তের পর জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা সরাসরি সতর্ক করেছিল, খাদ্য কমে গেলে ক্যাম্পে শিশু বিবাহ, মানবপাচার, যৌন ব্যবসা আর ঝুঁকিপূর্ণ নৌযাত্রা বেড়ে যাবে।
মানবতার যে কথা আমরা বইয়ে পড়ি, বক্তৃতায় শুনি, তার সঙ্গে এই বাস্তবতার দূরত্ব দেখে নিজের উপরেই ঘৃণা আসে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যারাই হোক, তাদের কাছে রোহিঙ্গারা যেন একটা সংখ্যা, একটা আইটেম, “প্রায় দশ লাখ শরণার্থী”, “ফান্ডিং শর্টফল কত মিলিয়ন ডলার”, এভাবে লেখা থাকে রিপোর্টে। কিন্তু কক্সবাজারের পাহাড় কেটে বানানো ক্যাম্পে যে নারীরা থাকে, তাদের চোখে প্রতিদিন কী ভয় ঘুরে বেড়ায়, সেটা এসব সংখ্যার ভেতর লেখা থাকে না। দিনের বেলায় তারা খাবারের লাইনে দাঁড়ায়, রাতের বেলায় বন্দুকের আওয়াজ আর গুজব শুনে আতঙ্কে ছটফট করে, কোথায় যেন আবার কেউ গুম হয়ে গেছে, কোথায় নাকি এক মেয়েকে তুলে নিয়ে গেছে, কোথায় নাকি “বিদেশ নেয়ার কথা বলে” আরেকজন কিশোরীকে পাচার করে ফেলেছে।
একজন উভকামী, নাস্তিক, নারীবাদী হিসেবে যখন রোহিঙ্গা নারীদের গল্প শুনি, তখন বুঝতে পারি, আমার নিজস্ব প্রান্তিকতা এখানে কত ক্ষুদ্র আর কতটা সুবিধাজনক। আমি একজন ব্রিটিশ ভিসাধারী বাংলাদেশি নারী; এই শহরে আমার নাম, পাসপোর্ট, অন্তত কিছু আইনি অস্তিত্ব আছে। রোহিঙ্গা নারীর তো রাষ্ট্রই নেই, বর্মি রাষ্ট তাকে নাগরিক বলে না, বাংলাদেশি রাষ্ট্র মনে করে সে “অবাঞ্ছিত অতিথি”, আন্তর্জাতিক বিশ্ব তাকে শুধু “ক্যাম্প পপুলেশন” বলে। এই অনাগরিক অবস্থানের কারণে তার প্রতি সহিংসতা যেন কারও দায়ই না, ধর্ষণ হলে দায় কে নেবে? পাচার হলে কাকে জবাব চাইব? গ্যাংয়ের হাতে রাতের আঁধারে হারিয়ে গেলে কারা খোঁজ করবে?
আমাদের অনেকেই হয়তো মনে মনে ভাবে, “বাংলাদেশ দরিদ্র দেশ, এত মানুষকে আর কত দিন ধরে রাখবে? কিছুটা কষ্ট তো হবেই।” কিন্তু এই যুক্তির আড়ালে লুকায়িত থাকে এক ধরনের নির্মমতা। হ্যাঁ, বাংলাদেশ একা এই বোঝা বহন করতে পারে না, সেটা সত্যি। কিন্তু তাই বলে আন্তর্জাতিক ফান্ড কমে গেলে, সবচেয়ে আগে কি রোহিঙ্গাদের মুখের খাবারটাই কেটে দিতে হবে? ফান্ডিং সংকটের কথা বলে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি যখন রেশন কমাল, তখন অনেক সংগঠনই সতর্ক করেছিল, এর ফল হবে “ভয়াবহ”, “বিপর্যয়কর”, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য। বিকল্প সমাধান খোঁজার বদলে, সহজ সমাধান নেওয়া হল, প্লেটে কম ভাত, প্যাকেটে কম চাল–ডাল।
সবচেয়ে বেশি কষ্ট লাগে যখন দেখি, রোহিঙ্গা নারীদের ওপর চলমান সহিংসতাও খুব ধীরে ধীরে, খুব কম শব্দে আমাদের নাগরিক আলোচনায় ঢোকে। কক্সবাজারে বা ঢাকায় বিভিন্ন মানবাধিকার কর্মী, ফেমিনিস্ট, কুইয়ার এক্টিভিস্টরা এই প্রসঙ্গ তুললেও, মূলধারার মিডিয়া আর শহুরে মধ্যবিত্ত আলোচনায় তা খুব কমই জায়গা পায়। সেখানে রোহিঙ্গা নারীর পরিচয় “মুসলিম শরণার্থী”, এখানে ধর্মীয় পরিচয়টাই বড়, তার নারী পরিচয়, তার শরীরের ঝুঁকি, তার প্রতিদিনের ভয় এগুলো যেন দ্বিতীয় সারির বিষয়। অথচ মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর গণধর্ষণ, ক্যাম্পে যৌন সহিংসতা, এখন আবার মানবপাচার, সবকিছু মিলিয়ে রোহিঙ্গা নারী আজ পদে পদে বিপন্ন।
আমি অনেকবার ভেবেছি, যদি আমি রোহিঙ্গা হতাম? যদি আমি সেই ক্যাম্পের একটা ছাউনিতে বড় হতে থাকা একটি কিশোরী হতাম, যাকে স্কুলে যাওয়া নিষেধ, বাইরে কাজ করা নিষেধ, একটা আনকোরা প্লাস্টিকের কার্ডই আমার খাবার, আর সেই কার্ডের টাকাও প্রতি কয়েক মাস পর পর কমে যায়? যদি আমি একজন বিধবা হতাম, যার স্বামীকে মিয়ানমারে সেনারা মেরে ফেলেছে, আর এখন বেঁচে থাকতে হলে হয়তো লোকাল দালালের কথায় কান পাততে হচ্ছে, “মালয়েশিয়া নিয়ে যাবে, সেখানে কাজ পাবে”, এই মিথ্যে স্বপ্নের। তখন আমার “নারীবাদ”, “অধিকার”, এসব শব্দ কেমন লাগত? নাকি শুধু সন্তানদের মুখের ভাতটাই একমাত্র সত্যি হয়ে উঠত?
কাঁটাতারের এই বন্দিশিবিরে রোহিঙ্গা নারীর ভাঙা বাংলাটা আমার কানে আমাদের নিজের দেশের নারীদের কান্নারই এক বিকল্প প্রতিধ্বনি মনে হয়। দারিদ্র্য, রাষ্ট্রহীনতা, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, এই তিনটে জিনিস একসাথে যখন একজনের ওপর পড়ে, তখন তার জীবনটা কেবল বেঁচে থাকাকে ছাড়িয়ে একটা অবিরাম যুদ্ধ হয়ে দাঁড়ায়। আন্তর্জাতিক তহবিল কমিয়ে, নিরাপত্তা কমিয়ে, শিক্ষার পথ বন্ধ করে, কর্মসংস্থানের রাস্তা রুদ্ধ করে আমরা সেই যুদ্ধটাকে আরও অসম করে দিচ্ছি।
রোহিঙ্গা নারীর প্রতি ন্যূনতম সম্মান দেখাতে চাইলে আমাদের প্রথম কাজ হওয়া উচিত, তাকে শুধু “দুঃখী শরণার্থী” হিসেবে না দেখে রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে দেখা, যার অধিকার আছে, কণ্ঠ আছে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আছে। রেশন কমিয়ে, সেবামুখী সংগঠনগুলোকে গুটিয়ে নিয়ে, ক্যাম্পকে কেবল নিরাপত্তার চোখে দেখলে এই নারীরা আরও বেশি ঠেলে দেওয়া হবে অন্ধকার অভিমুখে, মানবপাচার, জোরপূর্বক বিয়ে, গৃহকর্মী হিসেবে শোষণ, বা বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রার দিকে।
কাঁটাতারের বেড়ায় বন্দি এই মানবতাকে মুক্ত করার ক্ষমতা হয়তো এই মুহূর্তে আমার বা আপনার একার হাতে নেই। কিন্তু অন্তত এইটুকু আমরা করতে পারি, রোহিঙ্গা নারীর ক্ষুধা, তার ভয়, তার প্রতিদিনের সংগ্রামকে আমাদের আলোচনার বাইরে ঠেলে না রাখা। যখনই কেউ প্রশ্ন তোলে “কেন এত টাকা রোহিঙ্গাদের জন্য?”, তখন আমরা প্রশ্নটা পাল্টে দিতে পারি, “কেন একদল নির্যাতিত মানুষকে এত বছর ধরে রাষ্ট্রহীন আর নির্ভরশীল অবস্থায় আটকে রাখা হচ্ছে?” এবং “কেন তাদের ভাতের প্লেটটাই প্রথমে কাটতে হয়?” এই প্রশ্নগুলো যতদিন না পর্যন্ত নীতিনির্ধারকের কান ভেদ করে, ততদিন রোহিঙ্গা নারীর জীবন কাঁটাতারের ভেতরেই ঘুরপাক খেতে থাকবে, অর্ধেক পেট ভরা, পূর্ণমাত্রায় ভীত আর অদেখা।
25 Responses
কাঁটাতারের বেড়ায় বন্দি মানবতা লাইনটা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাস্তবতা পুরোপুরি ধরেছে। ১০ লাখ মানুষ কক্সবাজারে বছরের পর বছর বন্দি জীবনযাপন করছে, কোনো ভবিষ্যৎ নেই, শুধু অপেক্ষা।
তুই হিন্দু নাস্তিক বলে রোহিঙ্গাদের পক্ষে লিখছিস, কারণ তুই মুসলিম বাংলাদেশকে বোঝা চাপাতে চাস। ১০ লাখ রোহিঙ্গা এলে বাংলাদেশের নিজের জনগণের চাপ বাড়ে, অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এটা তুই দেখতে চাস না।
তুমি ভালো ধরেছ রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে genocide এর শিকার, কিন্তু বাংলাদেশে এসেও তারা camp এ বন্দি, চলাফেরা নিষেধ, কাজ করা নিষেধ, শিক্ষা সীমিত। এটা humanitarian crisis থেকে prolonged detention এ পরিণত হয়েছে।
তুই সব দোষ বাংলাদেশের; কিন্তু মিয়ানমার যারা genocide করেছে, তাদের নিয়ে তোর কলম নরম। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব মিয়ানমারের, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বাংলাদেশ তো আশ্রয় দিয়েছে, এটাই অনেক।
ভালো লাগল যে তুমি Bhasan Char relocation নিয়েও লিখেছ জোর করে remote island এ স্থানান্তর, জাতিসংঘের সীমিত access, cyclone ঝুঁকি এসব দেখায় যে solution নয়, বরং আরও isolation তৈরি হচ্ছে।
মুসলিম ভাই হিসেবে রোহিঙ্গাদের সাহায্য করা ঠিক, কিন্তু বাংলাদেশের নিজেরও সীমাবদ্ধতা আছে। আল্লাহ বলেছেন, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করো; অসীম বোঝা নেওয়ার দায়িত্ব বাংলাদেশের নয়।
তুমি যেভাবে barbed wire as metaphor ব্যবহার করেছ শুধু physical fence না, আইন, নীতি, সামাজিক বর্জন সব মিলে রোহিঙ্গারা invisible barbed wire এ বন্দি। এটা খুবই শক্তিশালী ইমেজ।
তুই সব সময় পশ্চিমা human rights সংস্থার রিপোর্ট আনিস; কিন্তু তারা বাংলাদেশের burden এর কথা বলে না, শুধু rights নিয়ে কান্না করে। রোহিঙ্গা নিয়ে পশ্চিম কী করেছে? শুধু কথা, টাকা দেয় না।
ভালো হয়েছে যে তুমি women ও children এর vulnerability ও এনেছ রোহিঙ্গা camp এ trafficking, sexual violence, child marriage বেড়েছে; UNHCR, Human Rights Watch এর রিপোর্টও এটা confirm করছে।
তোর লেখায় বাংলাদেশ সবসময় villain; কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশ humanitarian duty পালন করেছে, অন্য দেশ কেউ এত বড় বোঝা নেয়নি। তুই কৃতজ্ঞতা দেখাস না, শুধু সমালোচনা করিস।
তুমি ঠিকই বলেছ রোহিঙ্গারা দুই দেশের মাঝখানে আটকে গেছে; মিয়ানমার তাদের নাগরিক মানে না, বাংলাদেশ তাদের permanent আশ্রয় দিতে পারে না। stateless হয়ে থাকা মানে সব অধিকার থেকে বঞ্চিত।
কিন্তু তুই একবারও বলিস না রোহিঙ্গা camp এ drug trafficking, gang violence, extremist recruitment এর সমস্যা আছে। শুধু victim বানালে পুরো ছবি আসে না; security concern ও বাস্তব।
ভালো লাগল যে তুমি international responsibility নিয়ে লিখেছ UN, EU, USA সবাই শুধু statement দেয়, কিন্তু resettlement, funding, Myanmar এর ওপর চাপ কিছুই যথেষ্ট না। বাংলাদেশ একা বোঝা বহন করছে।
তোর লেখা পড়ে মনে হয়, রোহিঙ্গারা পুরো নিরীহ; কিন্তু camp এ অনেক crime, violence হয়, স্থানীয় জনগণও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। humanitarian concern ও security concern দুটোই balance করতে হবে।
তুমি যে বলেছ, কাঁটাতার মানে শুধু fence না, বরং আইন, নীতি, বর্জন সব মিলে তৈরি invisible cage এটা খুব গভীর observation। অনেক সময় legal ও social barrier physical barrier এর চেয়ে শক্তিশালী।
আল্লাহ মুসলিমদের একে অপরকে সাহায্য করতে বলেছেন; রোহিঙ্গারা মুসলিম ভাই, তাদের সাহায্য করা ঈমানি দায়িত্ব। কিন্তু তুই এটাকে মানবাধিকার বলে secular framework এ রাখিস, আল্লাহর নাম আনিস না।
ভালো হয়েছে যে তুমি Rohingya দের own voice ও এনেছ তাদের গল্প, তাদের আশা, তাদের frustration। অনেক সময় তারা শুধু statistic হয়ে থাকে, মানুষ হিসেবে দেখা হয় না।
তুই humanitarian crisis বলিস, কিন্তু বাংলাদেশের নিজের দেশে দারিদ্র্য, বেকারত্ব, সম্পদের অভাব আছে; নিজের জনগণ আগে, নাকি বিদেশি শরণার্থী? এই প্রশ্নটাও তুলতে হবে।
তুমি যেভাবে detention without trial metaphor ব্যবহার করেছ রোহিঙ্গারা কোনো অপরাধ করেনি, কিন্তু camp এ বছরের পর বছর বন্দি; কোনো trial নেই, কোনো sentence নেই, শুধু অনির্দিষ্টকালের অপেক্ষা।
ভালো লাগল যে তুমি education ও livelihood এর সীমাবদ্ধতাও এনেছ রোহিঙ্গা শিশুরা proper education পাচ্ছে না, কাজের সুযোগ নেই; ফলে একটা পুরো প্রজন্ম lost generation হয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু তুই একবারও বলিস না Myanmar repatriation না করলে এই crisis এর সমাধান নেই। বাংলাদেশকে দোষ দিলে হবে না, মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়াতে হবে; সেটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব।
তুমি যেভাবে humanity behind barbed wire দেখিয়েছ রোহিঙ্গারা শুধু refugee না, তারা মা, বাবা, শিশু, স্বপ্ন দেখা মানুষ; কিন্তু তাদের পুরো পরিচয় শুধু রোহিঙ্গা শরণার্থী হয়ে গেছে।
তোর সব লেখায় সরকার, রাষ্ট্র এসবকে villain বানানো হয়; কিন্তু complex geopolitical, economic, security issue গুলো ignore করিস। এত সহজ না যে শুধু মানবতা বললে সব সমাধান হয়ে যাবে।
ভালো হয়েছে যে তুমি regional solution নিয়েও লিখেছ ASEAN, India, China এদের ভূমিকা দরকার; শুধু বাংলাদেশ একা burden নিতে পারবে না। Myanmar কে জবাবদিহি করাতে regional pressure লাগবে।
তুই কাঁটাতার বলিস, কিন্তু border security সব দেশেই আছে; illegal entry ঠেকাতে fence লাগে। শুধু রোহিঙ্গা না, অন্য সব দেশেও refugee control করে; তুই শুধু বাংলাদেশকে অমানবিক বানাচ্ছিস।