মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন: ধর্মীয় শিক্ষার আড়ালে নির্মমতা

বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত শিশু নির্যাতিত হয় মাদ্রাসায়, তা অন্য কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হয় না। ধর্ম শিক্ষার নাম করে প্রতিদিন, মাদ্রাসার শিক্ষাগুরু দ্বারা শিশুরা শারিরীক ও মানুষিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। মাদ্রাসার বেশির ভাগ ছাত্র ছাত্রী হয়তো এতীম, নয় গরিব পরিবার থেকে আসে, তাই তাদের উপর ধর্মের নামে ব্রেইন ওয়াসটা সহজ হয়। আমাদের দেশে অনেক ধর্ম গুরু রয়েছেন যারা ধর্মকে পুঁজি করে অন্যায় করে যাচ্ছেন, এবং প্রশ্রয়কারী কিন্তু আমাদের মৌনতা, মৌলবাদীতা।

বাংলাদেশে মাদ্রাসা শুধু ধর্মীয় শিক্ষার কেন্দ্র নয়, অনেক শিশুর জন্য এটি আশ্রয়স্থলও। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা আমাদের সামনে এক ভয়ংকর বাস্তবতা তুলে ধরেছে—শিশু নির্যাতনের নির্মম চিত্র, যা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা ও মানবিক মূল্যবোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে লক্ষ্মীপুরের একটি হেফজখানায় মাত্র আট বছরের এক শিশুকে শিক্ষক ২৩ সেকেন্ডে ২১ বার বেত্রাঘাত করেন। ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। একই মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সী আরেক শিশুর মৃতদেহ পাওয়া যায়, যার গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হলেও প্রশ্ন রয়ে যায়—এই শিশুদের নিরাপত্তা কোথায়?

রাজধানীর মিরপুরে তানযীমুল উম্মাহ মাদ্রাসায় ৯ বছর বয়সী জামজাম ইসলাম রিতুলকে দুই ঘণ্টা ধরে স্টিলের স্কেল ও প্লাস্টিকের ঝাড়ু দিয়ে পেটানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে এবং শিশুটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।

শুধু মাদ্রাসা নয়, ২০২৪ সালের প্রথম দশ মাসে ৪৮২টি শিশু হত্যার শিকার হয়েছে, এবং ৫৮০ জন শিশু বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম (BCRF)। এই সংখ্যা শুধু পরিসংখ্যান নয়, প্রতিটি সংখ্যা একটি ভাঙা শৈশবের প্রতিচ্ছবি।

LEEDO নামক একটি শিশু অধিকার সংস্থা জানায়, শিশু নির্যাতন এখন ভয়াবহ সামাজিক সংকটে রূপ নিয়েছে। বরিশাল, কুমিল্লা, ঢাকা—দেশের নানা প্রান্তে শিশুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা বেড়েই চলেছে। অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরা ভয় বা সামাজিক লজ্জার কারণে অভিযোগ করেন না, ফলে অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যায়।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য জরুরি পদক্ষেপ হলো:

  • মাদ্রাসাগুলোর উপর কঠোর নজরদারি
  • শিশুদের জন্য সুরক্ষিত পরিবেশ নিশ্চিত করা
  • ধর্মীয় শিক্ষার নামে সহিংসতা বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা
  • অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি

আমরা কি শুধু প্রতিবাদ করে থেমে যাব? নাকি এই অমানবিকতার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করব? সময় এসেছে শিশুদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার।

29 Responses

  1. ধর্মীয় শিক্ষার আড়ালে নির্মমতা এই শিরোনামটা নিজেই পুরো সমস্যার সারাংশ। আলফুল্লা নূরানি, বাচ্চাদের কান্না চাপা দেওয়ার জন্য আয়াতের আওয়াজ বাড়ানো এসব বর্ণনা পড়ে গায়ে কাঁটা দিয়েছে।

  2. আপনি সবকিছুর জন্য মাদ্রাসাকে দায়ী করছেন। অথচ স্কুল কলেজ, বাড়ি, এমনকি আত্মীয়তার ভেতরেও শিশু নির্যাতন হয় ওগুলো নিয়ে আপনার ভাষা এত ধারালো না। শুধু ধর্মীয় শিক্ষাকে নিশানা করার একটা এজেন্ডা আছে আপনার।

  3. Prothom Alo, Daily Star, DW-এর রিপোর্টে যেভাবে বারবার কওমি মাদ্রাসায় শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের কথা এসেছে, আপনি সেগুলো একত্র করে দেখিয়েছেন। এটাকে দুই একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলা আর সম্ভব না।

  4. মাদ্রাসার সব শিক্ষকই খারাপ এমন ইমপ্রেশন আপনি বারবার তৈরি করছেন। অনেক আলেম কিন্তু সত্যি সত্যি নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলেন, কেস কোর্টে নেন। তাদের কথা উল্লেখ না করে পুরো সিস্টেমকে কালিমালিপ্ত করা ঠিক না।

  5. জিন লাগার চিকিৎসা র নামে বাচ্চাদের গা গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে পেটানোর যে বর্ণনা দিলেন, সেটা আমাদের গ্রামের বাস্তব। বাবা মাও ধর্মের ভয়ে চুপ থাকে। আপনার লেখা অন্তত এই নীরবতার বিরুদ্ধে একটা আওয়াজ।

  6. আপনি ইসলাম নিয়ে শত্রুতা করেন বলেই মনে হয় এসব লেখেন। শারীরিক শাস্তি তো আগে সাধারণ স্কুলেও ছিল, এখনও আছে; সেখানে ধর্মীয় শিক্ষার আড়ালে শিরোনাম বসান না কেন? এখানে শুধু ইসলামকেই টার্গেট করেছেন।

  7. আপনি UNICEF BBS-এর সার্ভে আর DW-এর রিপোর্ট রেফার করে দেখিয়েছেন ৮০% শিশুই কোনো না কোনো ধরনের সহিংসতার শিকার, আর মাদ্রাসায় শারীরিক শাস্তি আরও বেশি। আইন থাকলেও বাস্তবে প্রায় অকার্যকর এটা স্পষ্ট।

  8. সাইফুল ইসলাম নোমান says:

    আপনার ভাষা অনেক জায়গায় এমন, যেন মাদ্রাসা মানেই নির্যাতনকেন্দ্র। অথচ হাজার হাজার গরিব পরিবারের ছেলেমেয়ে সেখানে বিনা খরচে পড়ে, খায়। এই বাস্তবতা একদমই আসে না আপনার লেখায়।

  9. মো. ফারহানুল ইসলাম says:

    শিশুরা সুরা মুখস্থ করতে করতে নিজের শরীরের ব্যথার ভাষাও মুখস্থ করে ফেলে এই লাইনটা বুক কাঁপিয়ে দিল। ধর্মীয় শব্দের ভেতরে যখন মারধর লুকিয়ে থাকে, তখন ঈমানের সঙ্গে ভয়ের সম্পর্কই বেশি হয়ে যায়।

  10. আপনি শুধু কওমি ধারার উদাহরণ এনেছেন, আলিয়া/সরকারি মাদ্রাসা এবং সাধারণ স্কুলের ভেতরের নির্যাতন তুলনামূলক কম। এতে মনে হয়, আপনার আসল টার্গেট বিশেষ একধরনের ধর্মীয় শিক্ষা, সব প্রতিষ্ঠান না।

  11. যে অংশে লিখেছেন অভিভাবক থানায় গেলে ইমাম কমিটি এসে মীমাংসা র নামে চাপ দেয় সেটা খুবই রিয়ালিটিসুলভ। ধর্মীয় অথরিটি অনেক সময় আইনকেই বাইপাস করতে চায়, শিশু অধিকার সেখানে হারিয়ে যায়।

  12. শালি চুতমারানি, তোর ভোদায় এতো চুলকানি কেন? তোর কোথায় স্পষ্ট বোঝা যায় তুই একটা বেশ্যা বেহায়া নাস্তিক মাগি। তোকে দেশে দেখা মাত্র একদম ঘাপাঘাপ করে এক কোপে মাথাটা ফেলে দিয়ে তোর রক্ত দিয়ে গোসল করব ইনশাল্লাহ। দেশে ইসলাম কায়েম করেই ছাড়বো।

  13. জন্মদিনের দিনও বেতের আঘাত থামে না DW-তে ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওর কথা তুলে এনে আপনি পুরো দেশের বিবেককে প্রশ্ন করেছেন। সত্যি, বাচ্চাদের চোখের ভয় আমাদের কারও ঘুম নষ্ট করে না কেন?

  14. আপনার টোন একদম ব্ল্যাক ওয়াইট। ভালো আলেম নেই, ভালো মাদ্রাসা নেই, শুধু হিংসা আর নির্যাতন। অথচ বাস্তবে অনেক শিক্ষক নিজের সন্তানের মতো বাচ্চাদের রাখেন। আপনি সেই গল্পগুলো এড়িয়ে যান।

  15. ভালো যে আপনি এটা স্পষ্ট করে লিখেছেন শিশু নির্যাতন কোনোভাবেই ধর্মীয় শাসন না, বরং আইনগত অপরাধ। অনেকেই এখনো ভাবে, মারধর ইসলামি তালীমের অংশ। এই ভুল ধারণা ভাঙা জরুরি ছিল।

  16. আপনি সবসময়ের মতোই আবেগী ভাষা ব্যবহার করেছেন, কিন্তু এবার ডেটা আর রিপোর্টের সাপোর্ট আছে বলে যুক্তিগুলো অনেক বেশি কনভিন্সিং। ন্যাশনাল ক্রাইসিস শব্দটা ওয়াকাই যথার্থ মনে হচ্ছে।

  17. তোর মতো কুত্তী নাস্তিক মাগিরা এদেশের ও ইসলামের শত্রু, আমরা কিন্তু চিহ্নিত করে রেখেছি, দেখা মাত্র জবেহ করে কতল করা হবে। ইনশাল্লাহ।

  18. শিশুর শরীরে আল্লাহর নামে পড়া প্রথম শব্দ যদি বেতের দাগের সঙ্গে জড়িয়ে যায়, তাহলে সে আল্লাহকে কেমন ঈশ্বর হিসেবে কল্পনা করবে এই প্রশ্নটা খুব শক্তিশালী। ধর্ম ও নির্যাতনকে আলাদা করা দরকার।

  19. আপনি ইসলামের তাদিব আর আমাদের সমাজের মারধর দুটো আলাদা করে দেখাতে পারতেন। কুরআনে তো শিশুকে এমন নির্দয় মারার কথা নাই; বরং এসব কালচারাল প্যাটার্ন, আপনি সব ধর্মের কাঁধে চাপালেন।

  20. যে অংশে সাবেক মাদ্রাসা ছাত্রদের সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা অভিজ্ঞতা উল্লেখ করেছেন ৭ বছর বয়সে ধর্ষণ, হুমকি, চুপ করে থাকার বাধ্যবাধকতা ওগুলো পড়ে আতঙ্কিত হয়ে গেছি। এগুলো আর লুকিয়ে রাখা যায় না।

  21. আপনার লেখার সবচেয়ে বড় সমস্যা, আপনি সবসময় বাইরের কারও মতো কথা বলেন। মাদ্রাসায় না পড়ে, আলেমদের সাথে বসে না শুনে শুধু মিডিয়া রিপোর্ট আর পশ্চিমা এনজিওর লেখা দিয়ে পুরো ছবি আঁকেন।

  22. তবুও, কেউ না কেউ তো এই কথা বলবে যে, শিশু নির্যাতনকে ইমেজের ভয়ে চাপা দেওয়া নিজেই হারাম। আপনি অন্তত বললেন। এখন কাজ হচ্ছে, মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট, আলেম সমাজ তারা নিজেরাই এই কথাগুলো বলবে কি না।

  23. আপনি বারবার আদালতের জিরো টলারেন্স এর কথা তুলেছেন, কিন্তু বাস্তবে কেসের সংখ্যা আর দণ্ড পাওয়া অপরাধীর অনুপাত খুব কম এই গ্যাপ অল্প হলেও এসেছে। এটার ওপর আরও ফোকাস দরকার ছিল।

  24. লেখার একদম শেষে আপনি প্রশ্ন করেছেন শিশুর নিরাপত্তা আর আলেমের সম্মানের লড়াইয়ে আমরা কাকে বাঁচাতে চাই? মনে হচ্ছে, সমাজ হিসেবে আমরা এখনো আলেমের সম্মানই বাঁচাতে বেশি আগ্রহী।

  25. আপনি সবকিছুতে ধর্মকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেন বলে অনেকে রিঅ্যাক্ট করে। কিন্তু এই লেখায় অন্তত পরিষ্কার ধর্মের নামে যে নির্যাতন হচ্ছে, তা ইসলামের নামেই কুৎসা। আলেমদের বরং আপনার সঙ্গেই থাকা উচিত ছিল।

  26. আমি মাদ্রাসায় পড়েছি, মারধর খেয়েছি, আবার খুব ভাল শিক্ষকও পেয়েছি। আপনার লেখায় শুধুই অন্ধকার দেখে আমার নিজের স্মৃতি খানিকটা অপমানিত মনে হলো। তবু স্বীকার করি, আপনি যে কেসগুলো তুলেছেন, সেগুলো সত্যি বদলাতে হবে।

  27. শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে আপনার এই ধারাবাহিক লেখা (স্কুলের বেত থেকে মাদ্রাসার নির্যাতন) একটা বড় ছবি দেখায় আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাই শিশুবিরোধী। যদিও মাদ্রাসার অংশটা এখানে বেশি ফোকাসড।

  28. আপনি শুধু কওমি মাদ্রাসার কান্ড তুলে ধরে আলিয়া বোর্ড, সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানের ভেতরের ভালো কোনো উদাহরণ আনেননি। একটু ব্যালান্স করলে অনেকে কম ডিফেন্সিভ হতো।

  29. তারপরও, আপনার প্রশ্নটা এড়ানো যাচ্ছে না যখনই কোনো ভিডিও ভাইরাল না হয়, তখন কত শত বাচ্চা নীরবে পেটানো, অপমান, এমনকি ধর্ষণের শিকার হয় তাদের জন্য কে লিখছে? এই ব্লগ অন্তত তাদের ভাষা হতে চেয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *