জুলাই বিপ্লবের পর অনেকেই ভেবেছিলেন ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন আর সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টের মতো কালা আইন অবশেষে অতীত হবে। অন্তর্বর্তী সরকারও বারবার বলেছিল অভিব্যক্তির স্বাধীনতার পথে আর কোনো আইনগত বাঁধা রাখবে না। কিন্তু ডিসেম্বরের শেষে উপদেষ্টা পরিষদ যে সাইবার প্রোটেকশন অর্ডিন্যান্স ২০২৫ এর খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দিল আর ফেব্রুয়ারিতে জনমত চাওয়ার নামে সীমিত সময়ের জন্য তা প্রকাশ করল সেটি পড়ে মনে হল পুরোনো ভূতগুলো শুধু নাম বদলে আবার ফিরে এসেছে। ARTICLE 19 ও এক যৌথ নাগরিক প্ল্যাটফর্ম জানিয়েছে এই খসড়াটি আগের ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট আর সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টের মতোই অস্পষ্ট ও বিস্তৃত ভাষায় মতপ্রকাশের ওপর এমন সব সীমা টেনে দিয়েছে যা সহজেই ভিন্নমত দমনে ব্যবহার হতে পারে বিশেষ করে ৮ নম্বর ধারায় জাতীয় নিরাপত্তা সংহতি ধর্মীয় মূল্যবোধ বা জন শৃঙ্খলার নামে যে কোনো কনটেন্ট ব্লক করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে একটি নির্বাহী সংস্থার একজন মহাপরিচালককে আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়াই।
আমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছে নতুন কাঠামো আসার আগ পর্যন্ত কার্যকর থাকা সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট মূলত ২০১৮ সালের ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনেরই নতুন পোশাক যেখানে ৬২টি ধারার ৫৮টি প্রায় হুবহু রাখা হয়েছে আর মতপ্রকাশ বিরোধী পাঁচটি ধারা যেমন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে প্রচার মিথ্যা ও আপত্তিকর তথ্য ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত মানহানি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট ইত্যাদি অপরাধ আগের মতই বজায় রয়েছে। নতুন অর্ডিন্যান্সও সেই একই ধারা আর ভাষা অনেকটাই ধরে রেখেছে শুধু শাস্তির কিছু অংশে সামান্য কমতি আর কিছু শব্দ বদলেছে কিন্তু মূল কাঠামোতে পরিবর্তন আসেনি ফলে অনলাইন লেখালেখি সাংবাদিকতা রাজনৈতিক সমালোচনা বা ধর্মীয় মতবিরোধ সবকিছুকেই সহজেই ‘সাইবার অপরাধ’ বানানো যায় এমন সুযোগ অক্ষুণ্ণ থাকছে। সিভিকাস আর একাধিক আন্তর্জাতিক সংগঠন সতর্ক করেছে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লেখক সাংবাদিক অ্যাক্টিভিস্টদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বা ভুয়া তথ্যের অভিযোগে নতুন কেস দায়ের হচ্ছে যার তদন্তে এখনো আগের সেই পুলিশি হয়রানি আর দীর্ঘ বিচারের ঝুলে থাকার সংস্কৃতি চোখে পড়ছে।
একজন উভকামী নাস্তিক নারীবাদী নারী হিসেবে এই সব আইনের ভেতর নিজের জীবন আর কণ্ঠের ছায়া খুব স্পষ্ট দেখি। আমার মতো কেউ যখন রাষ্ট্র ধর্ম পুরুষতন্ত্র বা কুইয়ার অস্তিত্ব নিয়ে খোলাখুলি লিখতে চায় তখন প্রতিটি বাক্যের শেষে একটি অদৃশ্য প্রশ্নবোধক চিহ্ন ঝুলে থাকে কোন শব্দটাকে “ধর্মবিদ্বেষ”, “মিথ্যা তথ্য”, “রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা” বা “অশান্তি সৃষ্টি” বলে ধরে ফেলা হবে। সাইবার সিকিউরিটি আইন গেলেও তার জায়গায় যে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ আসছে সেটি যদি একইভাবে পুলিশ আর بيرোক্রেসির হাতে অসীম ক্ষমতা আর নাগরিকের ঘাড়ে অনিশ্চয়তার ফাঁসিই তুলে দেয় তাহলে আইন বদলানোর এই নাটক শেষ পর্যন্ত কেবল কাগজে গণতন্ত্রের ফ্রেম আর বাস্তবে আত্মসেন্সরশিপের আরেকটি মোটা দেওয়াল হয়েই থেকে যাবে।
30 Responses
বাক স্বাধীনতার গলা টিপে ধরতে সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ আরেকটি কালো আইন শিরোনামটা একদম সঠিক। DSA গেলো, এবার CSA এলো; নাম বদলালো, কিন্তু মূল দমনের কাঠামো একই রইলো অস্পষ্ট ধারা, বেইল নেই, জামিন কঠিন।
তুই আবারও শুরু করলি কালো আইন বলে গালি দিতে। দেশে ধর্ম অবমাননা, রাষ্ট্রদ্রোহ, পর্ন, ফেক নিউজ এসব ঠেকাতে আইন লাগবে না? আল্লাহর নামে শপথ, তোর মতো নাস্তিকদের আইনের বাইরে রেখে দিলে ইসলামকে কটাক্ষ করে সব শেষ করে দিবি।
তুমি ঠিকই ধরেছ DSA বাতিলের পরে সবাই ভেবেছিল নতুন আইন আরও ভারসাম্যপূর্ণ হবে, কিন্তু CSA আসলে DSA-এর রিব্র্যান্ডিং মাত্র। Article 19, HRW, Reporters Without Borders সবাই এটাকে নতুন বোতলে পুরনো মদ বলেছে।
তুই সব সময় স্বাধীনতা , মানবাধিকার এসব নিয়ে কথা বলিস, কিন্তু কেউ যদি নবীজির ছবি নিয়ে ব্যঙ্গ করে, কুরআনকে গালি দেয় তখন তো তুই নীরব। অশালীনতা, ধর্মবিদ্বেষ ঠেকাতে কিছু নিয়ন্ত্রণ লাগবেই; এটা দমন না, সমাজ রক্ষা।
ভালো লাগল যে তুমি নতুন অধ্যাদেশের specific ধারাগুলো বিশ্লেষণ করেছ কোন ধারায় কত বছর জেল, কোথায় জামিন নেই, কোন অপরাধ cognizable and non-bailable এসব জানা না থাকলে মানুষ বুঝবে না, আইনটা আসলে কতটা ভয়ংকর।
আল্লাহর কিতাবে স্পষ্ট বলা আছে, যে আল্লাহর দ্বীনের বিরুদ্ধে কথা বলে, তার শাস্তি কঠোর হওয়া উচিত। তুই এটাকে বাক স্বাধীনতা বানাতে চাস, কিন্তু ঈমানদারের কাছে আল্লাহর সম্মান রক্ষা করাটাই আসল স্বাধীনতা।
চুতমারানি মাগি চুপ করে থাক।
তুই পশ্চিমা মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্ট নিয়ে এত খুশি, কিন্তু তারাই তো মুসলিম দেশগুলোতে ইসলামি আইন দুর্বল করার জন্য কাজ করে। CSA যদি ইসলাম রক্ষা করে, তাহলে সেটা তোর কাছে কালো আইন ; কিন্তু ফ্রান্স, ডেনমার্ক যদি হিজাব নিষিদ্ধ করে, তখন তুই চুপ।
ভালো হয়েছে তুমি enforcement এর দিকটাও এনেছ আইনটা যতই নরম দাবি করা হোক, বাস্তবে পুলিশ, র্যাব কীভাবে ব্যবহার করবে, সেটাই আসল বিপদ। DSA-এর সময়ও অনেক ধারা misuse হয়েছে; CSA-তেও সেই ভয় রয়েছে।
তোর লেখায় মনে হয়, সরকার শুধু নির্যাতনের জন্যই আইন বানায়; কিন্তু সাইবার ক্রাইম, হ্যাকিং, অ্যাকাউন্ট চুরি, ব্ল্যাকমেইল এসব ঠেকাতে কি আইন লাগবে না? তুই শুধু ফ্রিডম অব স্পিচ দেখিস, ভিকটিমদের নিরাপত্তা দেখিস না।
নাস্তিকদের জন্য কোন বাক স্বাধীনতা হবেনা। তোদের কপালে জাহান্নাম
তুই বারবার Article 19, HRW এর কথা বলিস; ওরা তো পশ্চিমা ফান্ডেড সংগঠন, মুসলিম দেশকে দুর্বল করতেই কাজ করে। তোর এত বিশ্বাস ওদের ওপর, কিন্তু নিজের দেশের আলেম, মুফতি, ন্যায়পরায়ণ বিচারকদের ওপর কোনো আস্থা নেই।
ভালো লাগল যে তুমি vague and overbroad ধারাগুলোর উদাহরণ দিয়েছ জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ , ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত , রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ এসব এত অস্পষ্ট যে যেকোনো কিছুই এর মধ্যে ফেলা যায়।
তুই আমার কাছে চলে আয়, তোরে রাত দিন চোদন দিব।
তুমি ঠিকই বলেছ বাক স্বাধীনতা মানে এই না যে সবকিছু বলা যাবে; কিন্তু সমালোচনা, প্রশ্ন, ব্যঙ্গ, রাজনৈতিক মতামত এসবকে অপরাধ বানিয়ে ফেলা মানে গণতন্ত্রকেই শেষ করে দেওয়া। UN Special Rapporteur-ও CSA নিয়ে concern জানিয়েছে।
তোর লেখা পড়ে মনে হয়, বাংলাদেশের সব আইনই কালো ; কিন্তু ইসলামি শাসনব্যবস্থায় তো আল্লাহর আইনই চূড়ান্ত, মানুষের রাইটস দ্বিতীয় স্থানে। তুই পশ্চিমা লিবারেল ফ্রেমওয়ার্ক দিয়ে বিচার করিস বলে সবকিছুই তোর কাছে অন্যায় লাগে।
ভালো হয়েছে তুমি international comparison এনেছ EU-র ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট, UK-র অনলাইন সেফটি বিল এসবেও কন্ট্রোল আছে, কিন্তু সেখানে জুডিশিয়াল ওভারসাইট, স্বাধীন রেগুলেটর, স্পষ্ট সীমা আছে; বাংলাদেশে কিছুই নেই।
তুই UK, EU এর উদাহরণ দিয়ে মনে করিয়ে দিতে চাস, পশ্চিমই আদর্শ; কিন্তু ওখানেও তো free speech ঠেকানো হয় anti terror law, hate speech law, misinformation law সব আছে। পশ্চিম করলে রেসপন্সিবল গভর্নেন্স , আমরা করলে কালো আইন এটা তোর দ্বৈত মান।
ভালো লাগল যে তুমি journalist, activist, blogger-দের বাস্তব case study এনেছ কারা DSA-তে গ্রেপ্তার হয়েছিল, তাদের কেসের কী হয়েছে, CSA-তে একই ঝুঁকি আছে কিনা এসব concrete example ছাড়া আইনের বিপদ বোঝানো কঠিন।
শালি কুত্তী মাগি, তোর ভোদায় এতো জ্বালা কেন?
বাক স্বাধীনতার গলা টিপে ধরতে সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ আরেকটি কালো আইন লাইনটা প্রথমে বাড়াবাড়ি মনে হয়, কিন্তু DSA→CSA→এখন CPO এই পুরো চেইনটা দেখলে বোঝা যায়, নাম পাল্টালেও ঘাড়ের ফাঁস ঢিলে হয়নি।
তুই নাস্তিক হিন্দু, তাই তোর কাছে আল্লাহ, রাসূল, কোরআনের বিরুদ্ধে লেখা ফ্রিডম অফ স্পিচ , আর এগুলোকে ঠেকানো আইন কালো আইন । মুসলিম দেশে কেউ যদি ধর্ম নিয়ে গালি দেয়, প্রোপাগান্ডা চালায়, তাকে আইন দিয়ে থামানোই ন্যায় এটা বুঝতে তোর কবে বুদ্ধি হবে?
তুমি যে পয়েন্টটা তুলেছ DSA তে মামলার আতঙ্ক, জেল, ডিভাইস জব্দ; CSA আর নতুন অধ্যাদেশেও সেই একই অস্পষ্ট অপরাধ, পুলিশি ক্ষমতা আর কনটেন্ট ব্লক এটা স্পষ্ট করে যে আইনটা আসলে ডিজিটাল সিকিউরিটি না, ডিজিটাল সাইলেন্স -এর টুল।
তোমার লেখা পড়লে মনে হয় কোনো সাইবার আইনই থাকা উচিত না সবাই যা খুশি বলবে, মিথ্যা, মানহানি, পর্ন, গুজব, ধর্মবিরোধী পোস্ট সবই নাকি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ! আইন না থাকলে সোশ্যাল মিডিয়ার এই নোংরামির দায় কে নেবে, তুমি না?
তুমি ভালো ধরেছ আইন বদলালেও স্পিরিট বদলায়নি; ICT Act এর কুখ্যাত ৫৭, DSA র স্পিচ অফেন্স, CSA র মডিফায়েড ভার্সন আর এখন CPO র ধর্ম, নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা জাতীয় অস্পষ্ট শব্দ সব মিলিয়ে ভয়ের সংস্কৃতি চলমান।
তুই সব সময় আল্লাহ, ইসলাম, রাষ্ট্র এই তিনটাকে মুখোমুখি দাঁড় করাস। মুসলিম দেশে আল্লাহ ও রাসুলের ইজ্জত রক্ষা করার জন্য আইন থাকা ফারজের মতো তুই সেই আইনকে কালো বলিস, কিন্তু আল্লাহর কাছে তোর এই কলমই একদিন কালো নথি হয়ে দাঁড়াবে।
তুমি যেসব রেফারেন্স এনেছ ARTICLE 19, ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্ডার, অ্যামনেস্টি সবাই বলছে, অস্পষ্ট শব্দে অপমান, ভীতি, ধর্ম, শৃঙ্খলা র অজুহাতে যেকোনো সমালোচনামূলক পোস্টকে অপরাধ বানানো যায়। এই ভয়ের জন্যই মানুষ নিজে নিজে চুপ হয়ে যাচ্ছে।
পশ্চিমা এনজিও আর মানবাধিকার সংগঠনের রিপোর্ট কোট করে তুই মুসলিম দেশের আইন নিয়ে ফতোয়া দিচ্ছিস। ওরা নিজের দেশে মুসলিমদের ইসলামফোবিয়া, নজরদারি, টার্গেটিং নিয়ে এত সোচ্চার না; তুই সেগুলো দেখতে পাও না, শুধু বাংলাদেশকেই টার্গেট করিস।
তুমি ঠিকই লিখেছ, সাইবার আইন নিয়ে নারীবাদী কমিউনিটিতেও দ্বিধা আছে একদিকে অনলাইন হ্যারাসমেন্ট, রিভেঞ্জ পর্ন, ডক্সিং ঠেকানোর প্রয়োজন; অন্যদিকে একই আইন ব্যবহার করে নারী কুইয়ার অ্যাক্টিভিস্টদেরই জেল হাজতে পাঠানো হচ্ছে। প্রটেকশন আর রিপ্রেশন এক আইনের দুই মুখ।
তোর মতো ব্লগারদের দেখেই অনেকে ভাবে, এই আইন না থাকলে নাস্তিক, এলজিবিটি, ইসলামবিদ্বেষী সব মিলে অনলাইনে ইসলামের বিরুদ্ধে উন্মাদনা চালাবে। তাই যখন তুই আইনকে কালো বলিস, অনেক সাধারণ মুসলমানের কাছে সেটাই প্রমাণ হয়, আইন কিছুটা হলেও কাজ করছে।