ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট: রক্তের দাগ কি মোছা যাবে?

জুলাইয়ের সেই দিনগুলোতে বাংলাদেশ একসাথে দুইভাবে অন্ধকারে ডুবে গিয়েছিল। একদিকে রাস্তায় পড়ছিল ছাত্রদের রক্ত, অন্যদিকে আকাশের অদৃশ্য তারগুলো দিয়ে বয়ে যাওয়া ইন্টারনেট হঠাৎ নিভে গেল, যেন ১৭ কোটি মানুষকে এক ঝটকায় পৃথিবীর বাকি অংশ থেকে কেটে নিয়ে একটা বিশাল কারাগারে বন্দি করা হয়েছে। ১৮ জুলাই দুপুরে সরকার সারাদেশে প্রথমে মোবাইল ইন্টারনেট, কিছুক্ষণ পর ব্রডব্যান্ডও বন্ধ করে দিল, ঠিক সেই দিনগুলোতেই যখন কোটা–বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ওপর সবচেয়ে নির্মম গুলিবর্ষণ, গ্রেপ্তার আর নির্যাতন চলছিল। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আর মিডিয়ার হিসাবে, মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে ২০০–এর বেশি মানুষ নিহত হয়, হাজার হাজার মানুষ আহত, প্রায় আড়াই হাজার গ্রেপ্তার এবং ৬১,০০০–এর বেশি ছাত্র–কর্মীর নাম মামলায় আসামি করা হয়; আমনেস্টি বলছে, ১৮ থেকে ২৩ জুলাইয়ের পাঁচ দিনের সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউটের ভেতরেই এই হত্যাকাণ্ডের বড় অংশ ঘটে।
 
ইন্টারনেট বন্ধ করার আগেই সরকার ধাপে ধাপে ডিজিটাল দমন চালু করেছিল। ১৪ জুলাই শেখ হাসিনার “রাজাকার” মন্তব্যের পর যখন ভিডিও, লাইভ, পোস্টে দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়াতে শুরু করল, তখন প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর শাহবাগ এলাকায় হাই–স্পিড ডেটা বন্ধ করা হয়, ফেসবুক–হোয়াটসঅ্যাপ–টিকটক ধীরে ধীরে লোড হতে থাকে, তারপর পুরো শহর, তারপর বিশ্ববিদ্যালয়–শহরগুলো। ১৮ জুলাই দুপুরে জাতীয় টেলিকম মনিটরিং সেন্টারের গোপন নির্দেশে ৪জি পুরোপুরি বন্ধ করে শুধু ২জি রেখে দেওয়া হয়, কিছুক্ষণের মধ্যেই তা-ও অচল হয়ে যায়, ব্রডব্যান্ড আইএসপি–দেরও লাইন কেটে দেওয়া হয়। ২৩ জুলাই আংশিকভাবে ব্যাংক, রপ্তানি খাত, কিছু ব্যবসায়িক এলাকার জন্য সীমিত ব্রডব্যান্ড চালু করা হলেও মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধই থাকে, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থাকে ব্লকড; পুরোপুরি মোবাইল ইন্টারনেট ফিরে আসে ২৮ জুলাই বিকেলে, তাও ফেসবুক–হোয়াটসঅ্যাপ, টিকটক, ইউটিউব আরও কিছুদিন বন্ধ থাকে।
 
একজন উভকামী, নাস্তিক, নারীবাদী নারী হিসেবে এই ব্ল্যাকআউটকে শুধু প্রযুক্তিগত ঘটনা হিসেবে না দেখে এক ধরনের সমষ্টিগত সাইলেন্সিং হিসেবে দেখি। ইন্টারনেট বন্ধ মানে শুধু ফেসবুক না চালাতে পারা না; মানে জরুরি চিকিৎসা, এম্বুলেন্স ডাকা, পরিবারের সাথে যোগাযোগ, আইনি সাহায্য, সাংবাদিকদের তথ্য যাচাই, আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে সমন্বয় — সব একসাথে থেমে যাওয়া। সেই পাঁচদিনে কতজন আহত ছাত্র হাসপাতালে পৌঁছাতে পারেনি, কতজন মা–বাবা জানতে পারেনি তাদের সন্তান বেঁচে আছে কি না, কতজন মেয়েকে থানায় তুলে নেওয়ার ভিডিও কেউ রেকর্ড করতে পারেনি, তার কোনো সরকারি হিসাব নেই। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট ভাষায় বলেছে, কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে ইন্টারনেট ও ফোন–যোগাযোগ কেটে দিয়ে সংবাদ কাভারেজ আর তথ্য প্রবাহ ঠেকিয়েছে, যাতে গুলিবর্ষণ, গুম, নির্যাতনের প্রকৃত ছবি বাইরে না যায়।
 
টেকনিক্যাল রিপোর্টগুলো দেখায়, এটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ ও বিস্তৃত ইন্টারনেট shutdown। ১৮ থেকে ২৩ জুলাইয়ের পাঁচদিন পুরো দেশ অন্ধকারে, এরপর জুলাইয়ের বাকি সময় থ্রোটলিং, আংশিক ব্লক, প্ল্যাটফর্ম–নিষেধাজ্ঞা চলেছে; আগস্টের ৪ তারিখে ছাত্রদের “অনাগ্রহ আন্দোলন” আর “লং মার্চ টু ঢাকা”র ডাকের দিন আবারও সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউট করে ৫ আগস্ট বিকাল পর্যন্ত দেশকে এক তথ্য–কারাগারে বন্দি রাখা হয়, ঠিক সেই মুহূর্তেই সরকার পতনের নাটক মঞ্চস্থ হয়। ওপেন অবজারভেটরি অফ নেটওয়ার্ক ইন্টারফেরেন্সসহ একাধিক স্বাধীন নেটওয়ার্ক মাপজোখ সংস্থার ডেটা দেখায়, এই সময়ে সাবমেরিন কেবল, আইআইজি, ক্যাশ সার্ভার সব স্তরে ইচ্ছাকৃতভাবে সংযোগ কাটা ও গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা স্পষ্ট করে যে এটা কোনো টেকনিক্যাল ত্রুটি নয়, সচেতন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।
 
এই ব্ল্যাকআউটের ভেতরেও তরুণ প্রজন্ম হাল ছাড়েনি। কেউ ভিওআইপি কল, এসএমএস চেইন, অফলাইনে শেয়ারড ডকুমেন্ট, VPN, প্রক্সি, এমনকি এনক্রিপটেড মেশ–নেটওয়ার্কিং অ্যাপ ব্যবহার করে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করেছে; কেউ হাতে লেখা লিফলেট, দেয়াল–লিখন, মুখে মুখে বার্তা আদান–প্রদানের পুরোনো কৌশলে ফিরে গেছে। কিন্তু এই সব প্রতিরোধ সত্ত্বেও সত্যটা হল, রাষ্ট্র যখন একসাথে গুলি আর নীরবতা দিয়ে আক্রমণ করে, তখন তার সামনে দাঁড়ানো খুব কঠিন। Amnesty, Human Rights Watch, UN রিপোর্টগুলো বলছে, কয়েকদিনের মধ্যেই ২০০–এর বেশি মানুষ নিহত, কয়েক হাজার আহত; কিন্তু ইন্টারনেট না থাকলে এই হত্যার অনেকটাই ডকুমেন্ট না হয়েই থেকে যেত, কেবল কয়েকটা গুজব, ফিসফাস, দাফনের কবর পর্যন্ত সীমিত থাকত।
 
“ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট: রক্তের দাগ কি মোছা যাবে?” এই প্রশ্নের জবাব তাই প্রযুক্তিতে নেই, আছে রাজনৈতিক ন্যায়বিচার আর স্মৃতির রাজনীতিতে। যারা ভেবেছিল, লাইন কেটে দিলে গুলির শব্দ চাপা পড়বে, তারা ভুল প্রমাণিত হয়েছে; ২০২৫–এর মধ্যে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট–ফাইন্ডিং রিপোর্ট থেকে শুরু করে অসংখ্য ডকুমেন্টারি, ফরেনসিক বিশ্লেষণ, ভুক্তভোগীর জবানবন্দি — সব মিলিয়ে সেই পাঁচ দিনের অন্ধকারে যা ঘটেছিল, তার ছবিগুলো আবার আলোতে উঠে এসেছে। কিন্তু আমাদের নিজেদের দায় হল, ভবিষ্যতে কোনো সরকার যেন আর কখনও ইন্টারনেট কেটে নাগরিককে অন্ধ করে মারতে না পারে, সে জন্য সাংবিধানিক সুরক্ষা, স্পষ্ট আইন, এবং নাগরিক–সমাজের সতর্কতা গড়ে তোলা। নইলে, পরের বার যখন আবার এ দেশের আকাশে ব্ল্যাকআউট নেমে আসবে, তখন হয়তো আমরা আর জানতে পারব না, কোন রাস্তায় কত লাশ পড়ে আছে, আর কত মায়ের কান্না রাউটারের নিভু আলোয় চিরতরে আটকে গেছে।

28 Responses

  1. ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট: রক্তের দাগ কি মোছা যাবে? এই প্রশ্নটাই এখন পুরো প্রজন্মের মনের ভেতরের কথা। ১১ দিনের ব্ল্যাকআউট, তারপর আবার ৪ আগস্টের সম্পূর্ণ নীরবতা এই সব কিছুর ভেতরেই লুকানো আছে শত শত লাশ, গুম, চোখফোটা, যেগুলোর কোনো লাইভ ভিডিও নেই।

  2. আবদুল্লাহ আল মামুন says:

    তুই সবসময় পুলিশের গুলি, রাষ্ট্রের দমন এসব নিয়ে লিখিস, কিন্তু যারা দফতর জ্বালালো, থানায় হামলা করল, ট্রেন পুড়াল ওদের সহিংসতাকে খুবই হালকা করে দেখাস। ইন্টারনেট না কেটে দিলে এই গুজব, প্রোপাগান্ডায় দেশটা গৃহযুদ্ধে চলে যেত, এই দিকটাও দেখতে শিখ।

  3. তুমি ভালোভাবে লিখেছ, ব্ল্যাকআউট মানে শুধু অফলাইন থাকা না, দলিল মুছে ফেলা। ১৮ ২৩ জুলাই আর ৪ ৫ আগস্ট দুই ধাপেই সরকার ইন্টারনেট কেটে স্রেফ মানুষের প্রমাণ রাখার ক্ষমতাটাই টার্গেট করেছে, যেন পরের দিন কোনো ভিডিও, কোনো লাইভ, কোনো টুইট না থাকে।

  4. তুই যেন ভুলেই গেছিস, সোশ্যাল মিডিয়াতেই প্রথম গুজব ছড়ালো হাজার হাজার পুলিশ মারা গেছে , মসজিদে আগুন লাগানো হচ্ছে এসব। রাষ্ট্র যদি ইন্টারনেট কিছু সময়ের জন্য না কাটত, তবে তুই আজ যে ব্লগ থেকে কথা বলছিস, সেটাই হয়ত থাকত না।

  5. তুমি যে পয়েন্টটা তুলেছ রক্তের হিসাব দু’ভাবে লেখা হচ্ছে: সরকারি প্রেস কনফারেন্সে ১৪৭, ২০০, আর নিউজ রুম, মানবাধিকার সংগঠনের ভাষায় ২০০+, ৩০০+, ১০০০+ এই ডাটা যুদ্ধটা ব্ল্যাকআউট ছাড়া সম্ভব হত না। অন্ধকারেই সংখ্যাগুলো সহজে বিকৃত হয়।

  6. তুই হিন্দু নাস্তিক মেয়ে হয়ে মুসলিম দেশের নিরাপত্তা নিয়ে ফতোয়া দিছিস। আল্লাহর নামে শপথ করে বলি, রাষ্ট্র যদি তখন শক্ত হাতে দমন না করত, আজ হয়তো তুই এই ব্লগেই লিখতে পারতিস না; তোর প্রিয় অ্যানার্কিস্ট ভাইয়ারা সব পুড়িয়ে ছারখার করে দিত।

  7. তুমি যেভাবে লিখেছ ব্ল্যাকআউটের পরদিন কোনো ছাত্র নিজের লাশ দেখতে পায় না, শুধু হাসপাতালের করিডোরে নামহীন ট্যাগ; বাবা মা অন্য শহরে বসে কিছুই জানে না এটা কেবল ডিজিটাল রাইটস না, মানবিক বিপর্যয়ও। আমাদের শোক করাটাও কন্ট্রোলড হয়ে গেছে।

  8. তুই ব্ল্যাকআউটকে শুধু ডিক্টেটরশিপের সিম্বল বানাচ্ছিস, কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলোর ইন্টারনেট কন্ট্রোল, সার্ভেইল্যান্স, সাইবার পেট্রিয়ট অ্যাক্ট এসব নিয়ে তো তোর কোনো লেখা নাই। এরা করলে ন্যাশনাল সিকিউরিটি , আমরা করলেই কালো আইন ডাবল স্ট্যান্ডার্ড।

  9. মো. ফারহানুল ইসলাম says:

    ভালো লাগল যে তুমি OONI আর ডিজিটাল রাইটসের রিপোর্টের কথাও এনেছ মোবাইল থ্রটলিং, ব্রডব্যান্ড থ্রটলিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আলাদা করে ব্লক, VPN ব্লক এসব দেখায়, এটা শুধুই হঠাৎ সেফটি মেজার না, খুব পরিকল্পিত কৌশল।

  10. তোর লেখা পড়ে মনে হয়, পুলিশের গুলিই সব খারাপ, আর স্টুডেন্ট মবের হাতে পুলিশ, সাংবাদিক, সাধারণ মুসলমান যারা মারা গেছে, ওদের রক্তের কোনো দাম নেই। আল্লাহর কাছে কিন্তু রক্তের রঙ এক তুই সিলেক্টিভ হিসাব নিলে বিচার দিবসে সেটা ধরা পড়বেই।

  11. মো. সোলায়মান হোসেন says:

    তুমি ঠিকই ধরেছ, ব্ল্যাকআউট আর জুলাই ম্যাসাকার আলাদা করে ভাবা যায় না। ১৬ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত যা হয়েছে চোখ হারানো ৪০০+ ছাত্র, শত শত লাশ, গুম, কারফিউ সবই একটা শূন্যে ফেলে দাও নীতির অংশ, যেখানে তথ্যের কোনো জায়গা নেই।

  12. তুমি যে ছাত্রদের ৪০+ চোখ হারানোর ব্যাপারটা উল্লেখ করেছ, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছবি ওঠানোর ক্যামেরা ভাঙার পাশাপাশি ভবিষ্যতের সব ছবি দেখার ক্ষমতাও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ব্ল্যাকআউট আর ব্লাইন্ডিং দুটোই আসলে স্মৃতি মুছে ফেলার কৌশল।

  13. কিন্তু তুমি একবারও লেখনি, সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, স্টাফরা কীভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্লাড ব্যাগ, অপারেশন থিয়েটার, আইসিইউ সামলেছে। সবকিছুতে তুই শুধু পুলিশের গুলি আর সরকারের দমন দেখিস; মানুষের ছোট ছোট সাহস, ত্যাগগুলো অদৃশ্য হয়ে যায়।

  14. রক্তের দাগ কি মোছা যাবে? তোমার প্রশ্নের উত্তর একটাই: ইতিহাস লিখতে পারলে মোছা যাবে না। আর ব্ল্যাকআউটের মূল উদ্দেশ্যই ছিল, যেন অন্য কেউ ইতিহাস না লিখতে পারে; শুধু সরকারি ভাষণই থেকে যায়, ছবি, লাইভ, সিসিটিভি সব হারিয়ে যায়।

  15. তুই আবার তুলেছিস যদি তখন VPN এর ওপরও ব্লক না বসত, মানুষ আরো সংগঠিত হতে পারত যেন দেশের নিরাপত্তা না, তোর কাছে বেশি জরুরি ছিল তোর প্রিয় অ্যাক্টিভিস্টদের সুবিধা। আল্লাহর কিতাবে ফিতনা দাঙ্গা দমনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে সেটা তোর স্কেলে কোথায়?

  16. তুমি ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটকে ডিজিটাল গুলি বলেছ এটা খুব apt। রাস্তায় মানুষ মারা গেছে গুলিতে, আর অনলাইনে মানুষ মারা গেছে নীরবতায়; দুই জায়গায়ই লক্ষ্য ছিল এক প্রতিরোধকে অদৃশ্য করা।

  17. তোর লেখা পড়ে মনে হয়, বাংলাদেশে আগে কখনও ইন্টারনেট স্লো হয়নি, শুধু এবারই হয়েছে কারণ সরকার হত্যা লুকাতে চেয়েছে । কিন্তু বিশ্বজুড়ে প্রোটেস্ট হলে কমিউনিকেশন কন্ট্রোল করা নর্মাল জিনিস; এটাকে এমন ইউনিক দানব বানিয়ে তুই দেশের ইমেজ নষ্ট করছিস।

  18. ভালো হয়েছে যে তুমি ইকোনমির দিকও টেনেছ ইন্টারনেট বন্ধ মানে শুধু ফেসবুক বন্ধ না; ডাক্তার, রাইড শেয়ার, ফুড ডেলিভারি, ফ্রিল্যান্সার, ব্যাংকিং সব একসাথে থেমে যায়। এই ব্ল্যাকআউটের বিলটা শেষ পর্যন্ত গরিব মানুষকেই দিতে হবে।

  19. আবারও একই সমস্যা তুই কেবল সরকারের দমন আর পুলিশের গুলির কথা বলিস, কিন্তু ক্যাম্পাসে যে আগে থেকেই মারামারি, ভাঙচুর, পেট্রোল বোমা চলছিল, সেগুলোর কথা খুব কম। ফলে তোর লেখা পড়ে মনে হয়, সব সহিংসতা একপক্ষই করেছে, অন্যরা সবাই ফেরেশতা।

  20. মো. মোরশেদুল ইসলাম says:

    তুমি July masssacre আর ব্ল্যাকআউট দুটোকে একই ক্যানভাসে এঁকেছ এটা জরুরি ছিল। অনেকেই শুধু হাসিনার পতনের আনন্দ দেখে, এই কয়েক সপ্তাহের মৃত্যুর পরিমাণ, চোখ হারানো, প্রজন্মের ট্রমা এসবের কথা আর ভাবে না।

  21. তুই আল্লাহ, কদর, সাবর এসবের কোনো ভাষা ব্যবহার করিস না; তোর কাছে শুধু দমন আর প্রতিবাদ। মুসলিম সমাজের জন্য বিপদের সময়ে দোয়া, সাবর, তওবা এসবও গুরুত্বপূর্ণ; এই ডাইমেনশন তুই একেবারে মুছে দিস।

  22. তুমি যে প্রশ্ন তুলেছ যারা ব্ল্যাকআউটের আদেশ সাইন করেছে, টেলিকম কোম্পানির যারা নির্দেশ মানতে বাধ্য হয়েছে, তাদের কেউ কি একদিন ট্রাইব্যুনালের মুখোমুখি হবে? এটা কঠিন, কিন্তু দরকারি। শুধু গুলি চালানো পুলিশ না, নীরবতা চাপিয়ে দেওয়া আমলাদেরও হিসাব দিতে হবে।

  23. মো. মঞ্জুরুল ইসলাম says:

    তুমি দারুণভাবে দেখিয়েছ, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট আসলে কাউন্টার প্রটেস্ট । একদিকে ছাত্ররা রাস্তা দখল করেছে, অন্যদিকে রাষ্ট্র ডাটা দখল করেছে। মাঠ আর নেট দুইটা ফ্রন্টে যুদ্ধ হয়েছে; আমরা মাঠ জিতেছি, কিন্তু নেটের ইতিহাসটা বেশিরভাগই রাষ্ট্রের হাতে চলে গেছে।

  24. রক্তের দাগ কি মোছা যাবে? তুমি যেভাবে শেষে লিখেছ, শুধু তাহলে তন্নিষ্ঠ সত্য কমিশনই ব্ল্যাকআউটের ইতিহাস লিখতে পারে এটা একটা পলিটিক্যাল ডিমান্ডও। শুধু আবেগ দিয়ে হবে না, ইনভেস্টিগেশন, নাম লিস্ট, চিহ্নিতকরণ দরকার।

  25. কিন্তু তোর সব লেখায়ই দেখি, আল্লাহর কোনো ন্যায়বিচারের কথা নেই সব হিসাবই মানুষের কোর্ট, কমিশন, ট্রাইব্যুনাল। এই দুনিয়ায় ন্যায়বিচার পূর্ণ হবে না এটা মুসলিম বিশ্বাস; তুই সেটা মানিস না বলে সবকিছুতেই পারফেক্ট হিসাব চাইছিস।

  26. মো. রাব্বানী সিদ্দিক says:

    ভালো লেগেছে, তুমি Witness আর অন্যান্য ভিডিও আর্কাইভিং প্ল্যাটফর্মের কথাও এনেছ যারা মিরর লিঙ্ক, অফলাইন আপলোড, এনক্রিপ্টেড ব্যাকআপ দিয়ে ব্ল্যাকআউট ভেঙে সত্যকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে। এরা না থাকলে হয়তো আজ আমরা কিছুই জানতাম না।

  27. তোর রক্তের দাগ এর ভেতরে যতবার মুসলিম শাসক, আলেম, ইসলামিস্ট এই শব্দগুলো আসে, ততবার বুঝি, তোর আসল টার্গেট ধর্মীয় চরিত্র। অথচ যারা গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকেই স্রেফ পাওয়ার পলিটিক্সের লোক, ধর্মের সাথে সরাসরি সম্পর্ক নাই।

  28. সব মিলিয়ে, এই লেখাটা পড়ে মনে হয়, আমাদের প্রজন্মের ১৩ রাতের অন্ধকার ইতিহাসে লেখা থাকবে কি থাকবে না, সেটা নির্ভর করছে আমাদের ওপরে। তোর মতো লোকেরা লিখলে অন্তত কেউ তো প্রশ্ন করবে রক্তের দাগ মুছতে চাও কেন, নাকি লুকাতে চাও এই পার্থক্যটা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *