একটা রাষ্ট্র কতটা আত্মবিশ্বাসহীন হলে নিজের নাগরিকের মানবাধিকার লঙ্ঘনের নথি রাখা সংগঠনকে থামিয়ে দিতে চায়? বাংলাদেশে অধিকার নামটা অনেকের কাছেই ভয়ের, সরকারের জন্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য, গুম–খুনের কাহিনি ঢাকতে ব্যস্তদের জন্য। কারণ তারা গুলির শব্দের পরের নীরবতা নথিবদ্ধ করত, মাঝরাতে দরজা ভাঙার আওয়াজকে রিপোর্টে পরিণত করত, দুর্ভাগা মায়ের চোখের জলকে ডেটা বানিয়ে দেখাত, এই দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, নির্যাতন কোনো বিরোধী দলের প্রপাগান্ডা না, এগুলো বাস্তব, ধারাবাহিক রাষ্ট্রীয় অপরাধ। আর সেই সংগঠনেরই নিবন্ধন নবায়ন না করে কার্যত নিষিদ্ধ করল সরকার, একটা স্বাক্ষরে, একটা দপ্তরের সিদ্ধান্তে। এই স্বাক্ষর আসলে একটা দলিলে, যেখানে লেখা আছে: রাষ্ট্র নিজেই নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষীকে সরিয়ে দিচ্ছে।
অধিকারকে নিয়ে সরকারি অস্বস্তি নতুন কিছু না। অনেক আগে থেকেই তাদের বিরুদ্ধে “বিদেশি এজেন্ডা”, “রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ”, “তথ্য বিকৃতি”–র মতো অভিযোগ তোলা হচ্ছে। কারণ ওধিকার র্যাবের ক্রসফায়ারের সংখ্যা গুনেছে, রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত মানুষের পরিচয় তুলে ধরেছে, নির্বাচনের আগে–পরে বিরোধী দলের ওপর হামলা–গ্রেপ্তারের ধারাবাহিকতা দেখিয়েছে, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, ব্লগার হত্যা, মুক্তমনা কণ্ঠের ওপর আক্রমণের নথি জমিয়েছে। সরকার বারবার চেয়েছে, মানবাধিকার মানে শুধু ‘উন্নয়ন’ আর ‘নারী ক্ষমতায়ন’–এর গল্প শোনানো হোক; কিন্তু ওধিকার সেই গল্পের ভেতরে লুকিয়ে থাকা রক্তের দাগ দেখিয়েছে। তাই জুন ২০২৩-এ যখন তাদের নিবন্ধন নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত এল, সেটা কোনো টেকনিক্যাল ইস্যু ছিল না; সেটা ছিল স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা, আগামী নির্বাচনের আগে আর কোনো অস্বস্তিকর সত্যের হিসাব রাখা চলবে না।
এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব শুধু একটা এনজিওর অফিসের দরজা বন্ধ হওয়া না। এটা পুরো মানবাধিকার আন্দোলনের ওপর ছুরি চালানো। ওধিকার অনেক বছর ধরে আন্তর্জাতিক সংস্থা, জাতিসংঘ, বিদেশি সরকারগুলোর সামনে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির একটা বিকল্প চিত্র তুলে ধরত, যেখানে উন্নয়নের গ্রাফের পাশাপাশি লাশের সংখ্যাও দেখা যেত। এখন সরকার খুব স্বস্তিতে বলতে পারে, “দেশে মানবাধিকার নিয়ে যারা অত কথা বলে, তারা নাকি বিদেশি এজেন্ট; আমরা তো দেখছি সব ঠিক আছে।” অথচ একই সময়ে আন্তর্জাতিক রিপোর্টগুলো বলছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত, গুম–খুনের অভিযোগ অমীমাংসিত, নিরাপত্তা বাহিনীর জবাবদিহি নেই, বিরোধী কণ্ঠকে দমাতে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট ও পুলিশি দমন চলছে।
একজন নাস্তিক, উভকামী নারী আর নারীবাদী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানি, এই দেশ মানবাধিকার কথাটা যত বেশি মুখে আনে, ততই বাস্তবে তার বিপরীত কাজ করার অভ্যাস করে। ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুললে, নারী অধিকার নিয়ে কথা বললে, এলজিবিটি মানুষের অস্তিত্বের কথা বললে, সবকিছুর ওপর ঝুলে থাকে মামলা, হামলা, চরিত্রহননের ভয়। যখন ওধিকার এসব বিষয়, বিশেষ করে সংখ্যালঘু, নারী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর সহিংসতার ঘটনা, ডকুমেন্ট করত, তখন আমরাও জানতাম, অন্তত কেউ একটা আর্কাইভ তৈরি করছে, কেউ ভবিষ্যতের জন্য সত্য ধরে রাখছে। আজ তাদের মুখ বন্ধ করা মানে আমাদের ভবিষ্যত স্মৃতিকে বিকলাঙ্গ করে ফেলা। যেন রাষ্ট্র চাইছে, আগামী প্রজন্ম শুধু উন্নয়নের গল্প পড়ুক, কিন্তু শুনতে না পাক এই দেশের অন্ধকার রাতের চিৎকারের কথা।
নিবন্ধন না দেওয়ার অজুহাত ছিল নানা, ফরম পূরণের ত্রুটি, “ভুল তথ্য”, “আইন না মানা”, এসব এমন অভিযোগ, যা প্রায় সব এনজিওর বিরুদ্ধে কোনো না কোনোভাবে তোলা যায়। কিন্তু মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে এগুলোকে খুব নির্দিষ্টভাবে অস্ত্র বানানো হয়। আন্তর্জাতিক রিপোর্টগুলো স্পষ্ট বলছে, বাংলাদেশে বিরোধী দল, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, এনজিও, সবার ওপরই নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হচ্ছে, বিশেষ করে নির্বাচনের আগে। যে সংগঠনই রাষ্ট্রের বয়ানের বাইরে গিয়ে তথ্য দিতে চায়, তাকে কখনও রেজিস্ট্রেশন থেকে বঞ্চিত করা হয়, কখনও বিদেশি ফান্ডিং ঠেকিয়ে দেওয়া হয়, কখনও আইনি হয়রানির শিকার হতে হয়। ওধিকারের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে, তাদের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা, অফিসে চাপ, বিদেশি পার্টনারদের ওপর নজর, সব মিলিয়ে একটা বার্তা: “তোমরা যদি চুপ না থাকো, আমরা তোমাদের অস্তিত্বই মুছে দেব।”
এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্গ–প্রশ্নও আছে। ওধিকার শুধু গুম–খুনের পরিসংখ্যান বানাত না; তারা নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, অ্যাসিড হামলা, হত্যা, যৌতুক নির্যাতন, এসবের তথ্যও সংগ্রহ করত, অনেক সময় রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যানের চেয়ে অনেক বেশি স্পষ্ট, কষ্টকর আর লজ্জাজনক ছবি তুলে ধরত। যখন এই ধরনের সংগঠনকে থামিয়ে দেওয়া হয়, তখন নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার প্রকৃত অবস্থাটাও আরও অদৃশ্য হয়ে যায়। আমাদের সরকারের কাছে এটা খুবই সুবিধাজনক, যত কম তথ্য থাকবে, তত বেশি করে “নারী উন্নয়নের সাফল্য” দেখানো যাবে। একটি নীরব পরিসংখ্যান মানে অসংখ্য নীরব নারী, যারা বিচার চাওয়ার আগেই সিস্টেমের মধ্যে হারিয়ে যায়।
নিজের জীবনের অভিজ্ঞতাগুলোও এখানে ফিরে আসে, যখন বাংলাদেশে থেকে ব্লগ লিখতাম, নাস্তিকতা, নারী অধিকার, কুইয়ার পরিচিতি নিয়ে কথা বলতাম, তখন ওধকার মত সংগঠনগুলোর অস্তিত্ব একধরনের মানসিক আশ্রয় ছিল। মনে হতো, রাষ্ট্র আমাকে চায় না, সমাজ আমাকে গালি দেয়, মৌলবাদী আমাকে মেরে ফেলতে চায়, but at least কেউ আছে, যারা এই সহিংসতাগুলো নথিবদ্ধ করছে, কেউ আছে, যারা আন্তর্জাতিক পরিসরে বলে দিচ্ছে: “এই দেশে এই মানুষগুলোও আছে, তাদেরও অধিকার আছে।” আজ সেই সংগঠনকে গুটিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে বোঝা যায়, রাষ্ট্রের প্রকৃত অস্বস্তি আমাদের অস্তিত্ব নিয়েই, আমাদের কথাই তারা সহ্য করতে পারে না।
জুন ২০২৩-এ ওধিকারের নিবন্ধন বাতিল বা নবায়ন না করার সিদ্ধান্তকে তাই আলাদা করে “এনজিও ইস্যু” হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটা আসলে এক বড় রাজনৈতিক প্রকল্পের অংশ, যেখানে নির্বাচনকে আগেভাগেই নিয়ন্ত্রণ করা, বিরোধী কণ্ঠকে দুর্বল করা, আন্তর্জাতিক সমালোচনাকে থামানো, সব মিলিয়ে একটা “পরিচ্ছন্ন” ইমেজ বানানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু এই পরিচ্ছন্নতার মেকআপের নিচে যে রক্ত শুকিয়ে যাচ্ছে, তার গন্ধ কি কেউ টের পছ্ছে না? রাষ্ট্র গুমের নথি কেড়ে নিয়ে কি গুম হওয়া মানুষের মাকে শান্তি দিতে পারবে? ক্রসফায়ারের পরিসংখ্যান মুছে দিলে কি বুলেটের দাগ মুছে যায়?
অধিকার হরণের দলিলে রাষ্ট্র আজ নিজেই স্বাক্ষর করেছে, এই স্বাক্ষর শুধু ওধিকারের কাগজে না, আমাদের প্রত্যেকের কাগজে। যখন একটি মানবাধিকার সংগঠনকে থামানো হয়, তখন আসলে আমাদের ভবিষ্যৎ কণ্ঠগুলোকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়: “তোমরা ধীরে কথা বলো, কম কথা বলো, কিংবা একেবারেই চুপ থাকো।” একজন ব্লগার, একজন সাংবাদিক, একজন কুইয়ার এক্টিভিস্ট, একজন নারীবাদী, সবার উপরেই এই বার্তাটার ভয় কাজ করে।
কিন্তু ভয়ের মধ্যেও মনে রাখতে হবে, ওধিকারের মতো সংগঠন কখনও শুধুই একটা রেজিস্ট্রেশন নম্বর না; তারা আসলে মানুষের স্মৃতি, মানুষের প্রতিবাদ, মানুষের হারানো সন্তানদের নাম ধরে ডাকার ক্ষমতা। এই ক্ষমতাকে আটকানোর চেষ্টা যতবারই হয়েছে, ততবারই নতুন নতুন কণ্ঠ উঠে এসেছে, নতুন প্ল্যাটফর্ম, নতুন ফর্ম। রাষ্ট্রের স্বাক্ষর দিয়ে যদি অধিকার হরণ করা যেতেই পারত, তাহলে আজ পৃথিবীর কোনো দেশে মানবাধিকার আন্দোলনের ইতিহাস থাকত না। তাই, এই দমনের সময়েই আমাদের কাজ, সেই দলিলের পাশে নিজেদের অদৃশ্য স্বাক্ষর রাখা: “আমরা দেখছি, আমরা মনে রাখছি, আমরা নথি রাখছি।” যতক্ষণ এই স্মৃতি বেঁচে থাকে, ততক্ষণ রাষ্ট্র নিজের অপরাধকে পুরোপুরি মুছে ফেলতে পারবে না, রেজিস্ট্রেশন থাক বা না থাক, অধিকার শব্দটা আমাদের কণ্ঠে বেঁচে থাকবে।
24 Responses
অধিকার হরণের দলিলে রাষ্ট্রের স্বাক্ষর শিরোনামটাই বলে দিচ্ছে, DSA, গুম, ক্রসফায়ার, বাক স্বাধীনতা দমন এসব কেবল ব্যক্তিগত নির্যাতন না, বরং রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক হয়ে গেছে।
তুই হিন্দু নাস্তিক বলে সব সময় রাষ্ট্রকে villain বানাস। কিন্তু রাষ্ট্র না থাকলে আইন, শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা কিছুই থাকবে না। যারা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
তুমি ভালো ধরেছ রাষ্ট্র যখন নিজেই দলিল, আইন, policy দিয়ে অধিকার কেড়ে নেয়, তখন সেটা আর ব্যতিক্রম না, বরং system। enforced disappearance, extrajudicial killing এসব এখন documented state practice।
তুই সব দোষ সরকারের; কিন্তু বিরোধী দল, NGO, বিদেশি শক্তি এরাও তো রাষ্ট্রকে দুর্বল করতে চায়। তুই যেসব মানবাধিকার লঙ্ঘন বলছিস, অনেকগুলো প্রমাণহীন অভিযোগ; পশ্চিমা মিডিয়ার প্রচারণা।
ভালো লাগল যে তুমি institutional impunity নিয়ে লিখেছ র্যাব, পুলিশ, প্রশাসন কেউই জবাবদিহি করে না; কারণ রাষ্ট্র নিজেই তাদের রক্ষা করে। এই accountability crisis ই সবচেয়ে বড় সমস্যা।
ইসলামি রাষ্ট্রে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করা ফরজ; কিন্তু বাংলাদেশ সেক্যুলার রাষ্ট্র বলে আল্লাহর বিধান মানে না। তুই মানবাধিকার বলিস, কিন্তু আল্লাহর অধিকার সেটা তোর কাছে কিছুই না। রাষ্ট্র যদি আল্লাহমুখী হত, তাহলে অনেক সমস্যা সমাধান হত।
তুমি যেভাবে DSA, RAB Act, Special Powers Act এসব আইনের মাধ্যমে দমনের legal framework দেখিয়েছ এটা স্পষ্ট করে যে রাষ্ট্র কেবল জোর করে না, আইনসম্মতভাবে অধিকার কেড়ে নিচ্ছে।
তুই সব সময় বাংলাদেশকে authoritarian বলিস; কিন্তু ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার সবখানেই একই অবস্থা। শুধু বাংলাদেশকেই খলনায়ক বানানো কেন? পশ্চিমা দেশে surveillance, police brutality এসব নিয়ে তোর কলম নীরব।
ভালো হয়েছে যে তুমি UN, Amnesty, HRW এসব সংস্থার রিপোর্ট এনেছ; তারা বারবার বাংলাদেশে enforced disappearance, torture, extrajudicial killing নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, কিন্তু রাষ্ট্র কোনো পরিবর্তন আনেনি।
তোর লেখায় রাষ্ট্র সবসময় oppressor, জনগণ সবসময় victim। কিন্তু বাস্তবে অনেক নাগরিক রাষ্ট্রের সুরক্ষা চায়, law and order চায়; তুই শুধু anarchist দৃষ্টিকোণ থেকে দেখিস।
তুমি ঠিকই বলেছ অধিকার হরণ যখন দলিল, আইন, নীতি দিয়ে বৈধ করা হয়, তখন প্রতিবাদও অপরাধ হয়ে যায়। ফলে মানুষ ভয়ে চুপ থাকে, নিজেই নিজের সেন্সর হয়ে যায়।
কিন্তু তুই একবারও বলিস না যারা সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, খুনি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে সমাজ অরাজক হয়ে যাবে। ক্রসফায়ার, র্যাবের অভিযান এসব কিছু ক্ষেত্রে জরুরি।
ভালো লাগল যে তুমি state signature metaphor ব্যবহার করেছ রাষ্ট্র যখন official document, order, policy তে নিপীড়নকে বৈধ করে, সেটা individual brutality র চেয়ে বেশি বিপজ্জনক।
তোর লেখা পড়ে মনে হয়, রাষ্ট্র মানেই জুলুম, সরকার মানেই দমন। কিন্তু রাষ্ট্র ছাড়া তো সমাজ চলে না; সমস্যা হলো যারা ক্ষমতায় থাকে, তারা অপব্যবহার করে এটা সব দেশেই হয়।
তুমি যে বলেছ, যখন রাষ্ট্রই অধিকার হরণকারী, তখন কার কাছে বিচার চাইবে? এটা খুব গভীর প্রশ্ন। domestic legal system ব্যর্থ হলে তো international mechanism ই শেষ আশ্রয়।
আল্লাহর কাছে রাষ্ট্র, সরকার এসবের হিসাব হবে; কিন্তু তুই শুধু দুনিয়ার বিচার চাইছিস, আখিরাতের কথা ভাবছিস না। রাষ্ট্র যতই জুলুম করুক, আল্লাহর কাছে ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে এই বিশ্বাস মুসলিমের শক্তি।
ভালো হয়েছে যে তুমি victim families এর কথাও এনেছ গুমের পরিবার, ক্রসফায়ারের স্বজনরা বছরের পর বছর ন্যায়বিচার পায় না; রাষ্ট্র তাদেরকেও ভয় দেখায়, চুপ থাকতে বাধ্য করে।
তুই extrajudicial killing নিয়ে অনেক কথা বলিস; কিন্তু যারা মারা গেছে, তাদের অনেকেই তো আসলেই অপরাধী ছিল। court trial এ বছরের পর বছর লাগে, আবার ছেড়েও দেয়; তাই দ্রুত শাস্তির জন্য কিছু পদক্ষেপ নিতেই হয়।
তুমি যেভাবে legal framework of repression দেখিয়েছ DSA, CSA, RAB Act, Special Powers Act এসব মিলে একটা complete control mechanism তৈরি হয়েছে, যেখানে dissent মানেই risk।
ভালো লাগল যে তুমি শুধু political dissent না, religious minority, LGBTQ+, journalist সবার ওপর রাষ্ট্রীয় দমনের ছবি একসাথে এনেছ। সবাই different reason এ targeted, কিন্তু state machinery একই।
কিন্তু তুই একবারও বলিস না রাষ্ট্র যদি কঠোর না হয়, তাহলে terrorism, militancy, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এসব বেড়ে যাবে। কিছুটা repression দরকার stability র জন্য; এটা সব দেশেই করে।
তুমি যেভাবে signature metaphor ব্যবহার করেছ রাষ্ট্র যখন official order, circular, gazette notification দিয়ে নিপীড়ন করে, তখন সেটা individual crime না, state policy। এই institutional nature ই সবচেয়ে ভয়ংকর।
তোর সব লেখায় রাষ্ট্র, সরকার, আইন এসবকে শত্রু বানানো হয়; যেন সব কিছু ভেঙে ফেলতে হবে। কিন্তু বিকল্প কী? anarchy? তুই শুধু সমস্যা দেখাস, সমাধান দেখাস না।
ভালো হয়েছে যে তুমি international accountability mechanism নিয়েও লিখেছ ICC, UN Human Rights Council এসব জায়গায় বাংলাদেশের case নেওয়া যায়, কিন্তু রাজনৈতিক ইচ্ছার অভাবে হয় না।