চট্টগ্রাম হিলট্র্যাক্টসের খবর আমাদের সমতলের সংবাদপত্রে খুব কমই জায়গা পায়। পাহাড়ে মানুষ মারা যায়, পাহাড়ে নারী ধর্ষণের শিকার হয়, পাহাড়ে ঘরবাড়ি জ্বলে যায়, পাহাড়ের ছেলেমেয়েরা গুম হয়, এসব যেন আরেকটা ভৌগোলিক দেশের গল্প, যার সঙ্গে ঢাকার, চট্টগ্রামের, খুলনার নারীবাদী আড্ডার তেমন সম্পর্ক নেই। অথচ এই একই দেশে, আমাদেরই সংবিধানের ভেতর, আমাদেরই রাষ্ট্রের বুটের ছাপ গিয়ে পড়ে ওই পাহাড়ি মাটির গায়ে। নব্যায়ন চাকমা মিলন, একজন আদিবাসী রাজনৈতিক কর্মী, পাহাড়ি অধিকারের সংগ্রামী। ২০২২ সালের মার্চে সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারের পর নির্যাতনের মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল, আন্তর্জাতিক সংস্থা আর মানবাধিকার গোষ্ঠী তখনই বলেছিল, এটা কেবল একটা ‘কাস্টডিয়াল ডেথ’ নয়, এটা পাহাড়ে চলমান রাষ্ট্র–সেনা–বাঙালি শাসনের এক নগ্ন উদাহরণ। ২০২৩ সালে যখন মানবাধিকার রিপোর্টগুলোতে আবার মিলনের নাম ফিরে এল, তখন বোঝা গেল, পাহাড়ের রক্ত এখনও শুকায়নি, শুধু আমাদের চোখের সামনে থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে।
মিলনের গল্পটা আমি প্রথম পড়ি নিউইয়র্কভিত্তিক এক মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্টে। সেখানে লেখা ছিল, ভোররাতে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যায় সেনাসদস্যরা; তিনি তখন কোনও চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে উঠছিলেন, দুর্বল শরীর নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলেন। সাক্ষীরা বলেছে, ঘন্টার পর ঘন্টা তাকে লাথি, কিল, লাঠি দিয়ে পেটানো হয়, গায়ে-বুকের ওপর বুট চালানো হয়, হাত–পা ভেঙে যাওয়ার মতো অত্যাচার চলে। প্রায় অচেতন অবস্থায় তাকে নিয়ে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর হাসপাতালে আনা হয়, যেখানে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সামরিক বাহিনী বলল, সব কিছু নাকি আইনের মধ্যেই হয়েছে, আর তদন্তের কথা বলতে বলতে সময় পেরিয়ে গেল, বিচার, জবাবদিহি, দায় স্বীকার, কিছুই হল না।
বিশ্বের কাছে এটাকে তারা বলল “একটি আলাদা দুর্ঘটনা”, কিন্তু চট্টগ্রাম হিলট্র্যাক্টসের মানুষের কাছে এটা আলাদা কিছুই না। ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তির পর থেকে পাহাড়ে সেনা প্রত্যাহারের কথা থাকলেও বাস্তবে এই অঞ্চল এখনও বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি সামরিকীকৃত এলাকা; নতুন ক্যাম্প, নতুন ব্যাটালিয়ন, নানান বাহিনীর চেকপোস্ট আর টহল, সব মিলিয়ে পাহাড়ের জনগণ যেন প্রতিদিনই কাস্টডিতে বাস করছে। আন্তর্জাতিক রিপোর্টগুলো বারবার লিখছে, পাহাড়ে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর হত্যা, নির্যাতন, গুম, যৌন সহিংসতা, ভূমি দখল, এসব চলছেই, অভিযোগ উঠলেও সেনাবাহিনী বা নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে কার্যকর তদন্ত প্রায় হয় না বললেই চলে।
এই জায়গাটা থেকেই প্রশ্নটা জ্বলে ওঠে, সমতলের নারীবাদীরা চুপ কেন? আমরা যখন ঢাকায় বসে ধর্ষণ, বাল্যবিবাহ, পারিবারিক সহিংসতা নিয়ে লিখি, যখন পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে গলা ফাটাই, তখন আমাদের কণ্ঠ খুবই প্রয়োজনীয়। কিন্তু সেই কণ্ঠ পাহাড়ে পৌঁছে না। পাহাড়ি নারীর শরীর যখন সামরিক বুটের নিচে, পাহাড়ি পুরুষ যখন গুমের ভয়ে রাতে ঘুমাতে পারে না, পাহাড়ি শিশুর স্কুল পথে যায় সামরিক চেকপোস্টের সামনে দিয়ে, এই অভিজ্ঞতাগুলোকে আমারা কতটা “নারীবাদী ইস্যু” হিসেবে দেখি? আদিবাসী নারীর ও আদিবাসী পুরুষের ওপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়নকে যদি আমাদের আন্দোলনের কেন্দ্রে না আনি, তবে আমাদের নারীবাদ কেবল সমতলের মানুষ, সমতলের মধ্যবিত্ত, সমতলের শহুরে শরীরকেই ঘিরে থাকবে।
আমি নিজে একজন সমতলের নারী, তার ওপর নাস্তিক, উভকামী। আমার নিজের জীবনে যে ভয় কাজ করে, আইন, মৌলবাদ, পরিবার, সমাজ, সেগুলো গভীর, অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু পাহাড়ি নারীর ভয় আরও জটিল: সে একসাথে রাষ্ট্র, সেনা, বাঙালি সেটলার আর নিজের সম্প্রদায়ের পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আছে। পাহাড়ি নারীর ওপর ধর্ষণকে বহুবার রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, ভূমি দখল, ভয় দেখানো, অধিকার দাবির প্রতি প্রতিশোধ হিসেবে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বহুবার নথিভুক্ত করেছে, পাহাড়ে যৌন সহিংসতার ঘটনায় অভিযুক্ত সেনা বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে বিচার প্রায় নেই, অভিযোগ উল্টো স্থানীয়দের ওপরই ঘুরে দাঁড়ায়। সমতলের ফেসবুক টাইমলাইনে এই গল্পগুলো খুব কমই দেখা যায়, খুব কমই কোনো জনপ্রিয় ফেমিনিস্ট পেজ এসব নিয়ে ধারাবাহিক লিখে।
কখনও কখনও মনে হয়, আমরা সমতলের নারীবাদীরা একটা সুবিধাজনক নিরাপত্তা বলয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলি। রাজধানীর ক্যাফেতে বসে পাহাড়ের রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করা সহজ, কিন্তু পাহাড়ি নারীর কণ্ঠকে কেন্দ্রে রেখে নিজের অবস্থান বদলানো কঠিন। পাহাড়ি নারীর ছবি প্রায়ই ব্যবহার হয় ভিন্নতা, রঙিন শাড়ি আর ঐতিহ্যবাহী সাজের পোস্টারে; কিন্তু তার রক্তের দাগ, তার শোকে কাঁপা গলা, তার আতঙ্কিত চোখ, এসব আমরা প্রচারমাধ্যমের ফ্রেমে আনতে চাই না। উল্টো অনেক সময় শুনি, “পাহাড়ের সমস্যা তো খুব সেনসিটিভ, ওটা নিয়ে লিখলে ঝামেলা হবে”, মানে রাষ্ট্রের রোষের ভয়ে আমরা নিজেদের নারীবাদকে সংযমী করে ফেলি।
নব্যায়ন চাকমা মিলনের মৃত্যু আমাদের সামনে এক নির্মম আয়না ধরেছে। একজন আদিবাসী পুরুষকে যখন নির্যাতন করে মারা হয়, তার পরিবার, স্ত্রী, সন্তান, মা-বোন, তাদের ভাঙাচোরা জীবন নিয়ে আমাদের নারীবাদী আলোচনায় খুব কম কথা হয়। তার স্ত্রী রাতে কি ভয়ে ঘুমাতে পারেন? তার কিশোরী মেয়েটা যখন দেখে যে তার বাবাকে আইনের নামে হত্যা করা গেছে, তখন রাষ্ট্র, সেনা, বাঙালি সমাজ, সবকিছুর প্রতি তার বিশ্বাস কেমন থাকে? আমরা কি এই মানসিক ট্রমাকে নারী–অধিকার, মানবাধিকার আর ন্যায়বিচারের আলোচনার মধ্যে রাখছি? নাকি পাহাড়ের মানুষদের আলাদা “সিকিউরিটি ইস্যু” হিসেবে দেখে আন্দোলনের তালিকায় ফেলে রাখছি?
পাহাড়ে রক্তের দাগ মানে শুধু একটি মৃত্যুর গল্প না; এটা উপনিবেশিক শাসনের ধারাবাহিকতা, যেখানে সংখ্যাগুরু বাঙালি রাষ্ট্র তার সামরিক শক্তি আর প্রশাসনিক ক্ষমতা দিয়ে ছোট জনগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ করে। নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে গর্ব করার পাশাপাশি আমরা ভুলে যাই, এই একই রাষ্ট্র আবার অন্য কারও ভূমি দখল করছে, অন্য কারও সংস্কৃতি, ভাষা, পরিচয়কে তুচ্ছ করে দেখছে। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে বারবার বলা হয় “উন্নয়নের পথে বাঁধা সশস্ত্র গোষ্ঠী”, কিন্তু খুব কমই বলা হয়, ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তিতে যে সেনা প্রত্যাহার, ভূমি কমিশন, স্বায়ত্তশাসনের কথা ছিল, তার কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে। যখন প্রতিশ্রুতি বাস্তবে আসে না, তখন পাহাড়ের অস্থিরতা আসলে রাষ্ট্রের নিজের ভঙ্গ প্রতিশ্রুতির ফসল।
তাহলে প্রশ্নটা আবার করি, সমতলের নারীবাদীরা চুপ কেন? হয়তো কারণ পাহাড়ের সংগ্রামকে আমরা আমাদের সংগ্রামের অংশ ভাবিনি। আমরা ভেবেছি, পাহাড়ের মানুষ নিজেদের মতো করে লড়ুক; আমরা ঢাকা, সিলেট, রাজশাহীতে নিজেদের গণ্ডির মধ্যে লড়ি। এই বিভাজনের ফলেই রাষ্ট্র সব সময় সুবিধা পায়, একদিকে পাহাড়কে সামরিক শাসনে রাখে, অন্যদিকে সমতলে নিজেদের গণতান্ত্রিক, উন্নয়নমুখী, নারী–অধিকার–বন্ধু হিসেবে সাজিয়ে রাখে।
নিজের নারীবাদী পরিচয়ের দিকে তাকিয়ে তাই এখন আর শুধুই জেন্ডার দিয়ে লড়াইকে সংজ্ঞায়িত করতে ইচ্ছে হয় না। নারীর অধিকার মানে কেবল তো গায়ে হাত না পড়া না; মানে নিজের মাটিতে নিরাপদ থাকা, নিজের ভাষায় কথা বলতে পারা, নিজের রাজনৈতিক মতের জন্য নির্যাতনের ভয়ে না থাকা। পাহাড়ি নারী যখন সামরিক চেকপোস্ট পেরিয়ে হাঁটে, পাহাড়ি পুরুষ যখন রাতে সেনা টহলের শব্দে আঁতকে ওঠে, তখন তাদের জন্য আমাদের ফেমিনিজম যদি কিছু বলতে না পারে, তাহলে সেই ফেমিনিজম অসম্পূর্ণ, আংশিক, সুবিধাজনক।
এপ্রিল ২০২৩-এ বসে পাহাড়ে মিলনের মৃত্যুর কথা ভাবতে গিয়ে মনে হয়, এই রক্তের দাগ আমাদের প্রত্যেকের হাতেও লেগে আছে, কারণ আমরা চুপ থেকেছি। আন্তর্জাতিক রিপোর্ট, এনজিওর বিবৃতি, কাগজের সাদা পাতায় কালো হরফে লেখা “কাস্টডিতে মৃত্যু”, এসবের বাইরে আমাদের ব্যক্তিগত অবস্থান কী? আমরা কি এই মৃত্যুকে আমাদের সংগ্রামের অংশ করব, নাকি “সিকিউরিটি ইস্যু” বলে পাশ কাটিয়ে যাব? পাহাড়ের রক্ত শুকোতে শুকোতে সমতলের বিবেকও ধীরে ধীরে পাথর হয়ে যাচ্ছে। এই পাথর ভাঙার কাজটা যদি আমরা না করি, তবে একদিন সেই একই বুটের শব্দ সমতলের গলিতেও নেমে আসবে, তখন আর পাহাড়-সমতল আলাদা করে দেখার সুযোগ থাকবে না।
28 Responses
পাহাড়ে রক্তের দাগ, সমতলের নারীবাদীরা চুপ কেন? প্রশ্নটা খুবই জরুরি। চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা নারীদের ওপর ধর্ষণ, হত্যা, ভূমি থেকে উচ্ছেদ এসব নিয়ে Dhaka-based feminist movement প্রায় নীরব।
তুই হিন্দু নাস্তিক বলে পাহাড়ি separatist দের পক্ষে লিখছিস। পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অংশ; সেখানে যারা সন্ত্রাস করে, তাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর পদক্ষেপ দরকার। তুই এটাকে নারী নির্যাতন বানিয়ে separatist agenda চালাচ্ছিস।
তুমি ভালো ধরেছ mainstream feminism বাংলাদেশে mostly urban, Bengali, Muslim centric; আদিবাসী নারীদের struggle, identity, violence এসব তাদের এজেন্ডায় আসে না। এটা intersectionality র অভাব।
তুই সব দোষ সেনাবাহিনী আর সেটলারদের; কিন্তু পাহাড়ে যে tribal armed group আছে, তারাও তো অপহরণ, extortion, violence করে। শুধু একদিকের গল্প বললে পুরো ছবি আসে না।
ভালো লাগল যে তুমি land dispossession নিয়ে লিখেছ পাহাড়ি নারীদের জন্য land মানে শুধু সম্পত্তি না, তাদের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি, পরিচয়ের সাথে জড়িত। land grab মানে তাদের পুরো জীবন উল্টে যাওয়া।
পার্বত্য চট্টগ্রামে বৌদ্ধ, animist, tribal এসব non-Muslim জনগোষ্ঠী আছে; তারা মুসলিম দেশের অংশ, তাই তাদের ইসলামি আইন মানতে হবে না এটা ঠিক। কিন্তু তুই separatism support করিস; এটা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।
তুমি যেভাবে silence of plains feminists নিয়ে লিখেছ এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। feminist movement যদি শুধু urban, educated, Bengali নারীদের জন্য হয়, তাহলে সেটা আসলে inclusive না, বরং privileged feminism।
তুই সব সময় পশ্চিমা indigenous rights discourse আনিস; কিন্তু বাংলাদেশে সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। আদিবাসী শব্দ ব্যবহার করা মানে separatism support করা; সরকার এটা recognize করে না, কারণ এটা দেশের unity নষ্ট করে।
ভালো হয়েছে যে তুমি sexual violence ও militarization এর link দেখিয়েছ military camp, settler, armed group সবার মাঝখানে পাহাড়ি নারীরা সবচেয়ে vulnerable। rape যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার হয়।
তোর লেখায় সেনাবাহিনী সবসময় villain; কিন্তু তারা দেশ রক্ষা করছে, peace রক্ষা করছে। কিছু isolated incident কে নিয়ে পুরো সেনাবাহিনীকে দোষী বানানো অন্যায়।
তুমি ঠিকই বলেছ পাহাড়ে রক্ত শুধু metaphor না, literal truth; Kalpana Chakma disappearance, rape, murder এসব documented, কিন্তু কোনো justice নেই। আর mainstream media, feminist group সবাই চুপ।
কিন্তু তুই একবারও বলিস না Bengali settler রাও তো victim; tribal armed group তাদের হত্যা করেছে, intimidate করেছে। conflict এ উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত; শুধু tribal দের victim বানালে bias হয়।
ভালো লাগল যে তুমি intersectionality নিয়ে লিখেছ পাহাড়ি নারীরা gender, ethnicity, class তিন স্তরের marginalization এর শিকার; কিন্তু feminist movement তাদের জন্য কোনো space তৈরি করেনি।
তোর লেখা পড়ে মনে হয়, সমতলের সব feminist ই racist বা indifferent; কিন্তু অনেকে তো পাহাড়ি নারীদের support করে, solidarity দেখায়। তুই generalize করে সবাইকে এক করে ফেলিস।
তুমি যে বলেছ, রক্তের দাগ পাহাড়ে আছে, কিন্তু সমতলের চোখে পড়ে না এটা খুব সত্যি। geographical, ethnic distance এর কারণে পাহাড়ি মানুষের suffering invisible হয়ে যায়।
আল্লাহ সব জুলুমের বিচার করবেন; পাহাড়ি নারীদের ওপর যদি সত্যিই অন্যায় হয়, তাহলে তার বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু তুই এটাকে ethnic conflict বানিয়ে দেশের unity নষ্ট করতে চাইছিস।
ভালো হয়েছে যে তুমি CHT Accord implementation এর ব্যর্থতা নিয়ে লিখেছ ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তি কাগজে আছে, কিন্তু বাস্তবে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর land rights, autonomy কিছুই মানা হয়নি।
তুই indigenous শব্দ ব্যবহার করিস; কিন্তু বাংলাদেশে সবাই বাঙালি; কেউ আদিবাসী না। এই terminology নিয়ে খেলা করে তুই আসলে separatist propaganda চালাচ্ছিস।
তুমি যেভাবে feminist silence critique করেছ এটা self-reflection-এর জন্য জরুরি। feminist movement যদি শুধু Dhaka-centric, Bengali, middle-class হয়, তাহলে সেটা সত্যিকার justice আনতে পারবে না।
ভালো লাগল যে তুমি cultural genocide-ও এনেছ পাহাড়ি ভাষা, সংস্কৃতি, জীবনযাত্রা ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে; Bengali culture, language imposed হচ্ছে। এটা শুধু violence না, cultural erasure।
কিন্তু তুই একবারও বলিস না tribal armed group রাও rape, extortion, kidnapping করেছে। শুধু state আর settler দের দোষ দিলে পুরো conflict এর complexity আসে না।
তুমি যেভাবে blood on the hills metaphor ব্যবহার করেছ এটা শুধু poetic না, literal। Kalpana Chakma, Rumana Chakma নামগুলো আমরা জানি, কিন্তু কত নামহীন নারী violence এর শিকার হয়েছে, সেটা জানি না।
তোর সব লেখায় বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে villain বানানো হয়; যেন দেশের কোনো sovereignty, security concern নেই। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে তোর লেখা separatist agenda-র সাথে মিলে যায়।
ভালো হয়েছে যে তুমি land commission এর ব্যর্থতা নিয়ে লিখেছ Land Dispute Resolution Commission কাজ করছে না, হাজার হাজার case pending; ফলে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী তাদের land ফিরে পাচ্ছে না।
তুই চুপ কেন? জিজ্ঞেস করিস, কিন্তু feminist রা তো অনেক ইস্যু নিয়ে কাজ করে; সবাই সব ইস্যু নিয়ে কথা বলতে পারে না। এভাবে accuse করা unfair।
তুমি যেভাবে mainstream feminism’s blindspot দেখিয়েছ এটা শুধু বাংলাদেশে না, globally হয়; white feminism, urban feminism সবার মধ্যে এই exclusion আছে। এটা recognize করা এবং address করা দরকার।
ভালো লাগল যে তুমি victim voice ও এনেছ পাহাড়ি নারীদের নিজের ভাষায় তাদের গল্প বলার সুযোগ কম; সমতলের activist, journalist, researcher রা তাদের জন্য speak করে, কিন্তু তাদের কথা শোনা হয় না।
তোর লেখায় কখনও পাহাড়ি নারীদের কোনো agency নেই, শুধু victim; কিন্তু অনেক পাহাড়ি নারী leader, activist, তারা নিজেরাই লড়ছ